চৌগাছায় সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী ও সৌদি প্রবাসীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০০:৩৩
চৌগাছা প্রতিনিধি
যশোরের চৌগাছায় পৃথক ঘটনায় ২ বছরের শিশু কন্যার কান্নার শব্দে দরজা ভেঙে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী ইমা খাতুন (২১) এবং তালাক দেয়া স্ত্রীর ঘরের ছাদের কার্নিশ থেকে সৌদি প্রবাসী রবিউল ইসলামের (৩৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ইমা খাতুন উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের ছোট কাকুড়িয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে এবং সিংহঝুলী ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী সিজার হোসেনের স্ত্রী। রবিউল ইসলাম উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে।
সোমবার (২৪আগস্ট) উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর এবং পাতিবিলা ইউনিয়নের রোস্তমপুর মাঠপাড়া গ্রাম থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সিজার সৌদিতে শ্রমিক হিসেবে যাওয়ার পরও ২ বছরের একমাত্র শিশু কন্যাকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতেই থাকতেন ইমা খাতুন। রোববার দিবাগত রাত ১:৩০ মিনিটের দিকে নিহতের একমাত্র মেয়ে অজিহার কান্নাকাটির শব্দে তার স্বামী সিজারের বড়ভাই ঘরের দরজায় গিয়ে দেখেন দরজা বন্ধ। ইমার কোন সাড়া নেই। তখন তার বাবা (নিহতের শ্বশুর) জামায়াত আলীসহ বাড়ির অন্যদের ডেকে ঘরের দরজা ভেঙে দেখেন সিলিং ফ্যানের হুকে নিজের ওড়না পেচানো ইমার দেহ ঝুলছে। দ্রুত সেখান থেকে উদ্ধার করে গ্রাম্য ডাক্তার ওবায়দুলকে ডেকে এনে দেখান। তিনি তাকে মৃত ঘোষণা দেন।
নিহতের বাড়িতে উপস্থিত প্রতিবেশিরা জানান, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সৌদি প্রবাসী স্বামী সিজার এবং তার পরিবারের সাথে ইমার বনিবনা ছিলো না। সে কারনে অভিমান করে সে আত্মহত্যা করতে পারে। তবে এ বিষয়ে ইমার স্বামীর ইমো নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেন নি।
অন্যদিকে সোমবার সকালে রবিউল ইসলামের শ্বশুর বাড়ির লোকজন দেখতে পান তার স্ত্রী পারভিনা খাতুন যে ঘরে থাকেন সেই ঘরের ছাদের পানির লাইনের সাথে গলায় রশি দিয়ে ঝুলছেন রবিউল (৩৫)। পরে তাদের ডাকে প্রতিবেশিরা এসে থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।
পুলিশ, নিহতের মৌখিক তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী পারভিনা খাতুন (২৩) এবং স্থানীয় উপস্থিত লোকজনের নিকট থেকে জানা যায়, রবিউল সৌদিতে থাকার সময় বেশ কিছু টাকা দেনা হয়ে পড়েন। এসব বিষয়ে তিনি কিছুটা মানসিকসমস্যাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। একারনে তিনি বাড়ি চলে আসেন। পরবর্তীতে পারিবারিক ঝামেলা নিয়ে স্ত্রী পারভিনা খাতুন কে মৌখিকভাবে তালাক প্রদান করেন।
তবে পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে রোববার গভীর রাতে শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে ডাকাডাকি করেন। তবে তার ডাকে স্ত্রী সাড়া দেন নি।
রবিউলের শ্বশুর বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়দের ধারনা এই অভিমান থেকেই তিনি বাবার বাড়িতে স্ত্রীর শোবার ঘরের ছাদের পানির লাইনের সাথে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাদের ধারনা রাত ১২.৩০ থেকে সকাল ৬.৩০ মিনিটের মধ্য যে কোন সময় তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ পিপিএম বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়া তাদের মৃত্যু কিভাবে হয়েছে সঠিক বলা যাবে না। তিনি বলেন লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। তিনি জানান এবিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আপনার মতামত লিখুন :