• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

কঙ্গোয় খনি ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২৭,এখনো নিখোঁজ বহু


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:১২
ছবির ক্যাপশন: ad728

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, স্বপ্নভূমি :

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলে এম২৩ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন রুবায়া কলটান খনিতে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ২০০ জনের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সরকার এক বিবৃতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সূত্রমতে, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দু দফায় এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে, যার ফলে খনির গভীর সুড়ঙ্গে আটকা পড়েন কয়েকশ শ্রমিক।

উত্তর কিভু প্রদেশের রুবায়া খনি এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। বুধবার বিকেলে বৃষ্টির প্রভাবে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে খনির ওপর। এতে সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা জীবন্ত সমাহিত হন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে দ্বিতীয় দফায় ভূমিধস হলে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে। বিদ্রোহীদের নিযুক্ত গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কামবেরে মুইসা জানিয়েছেন, নিহতের মধ্যে খনি শ্রমিকদের পাশাপাশি শিশু এবং বাজারে আসা নারীরাও রয়েছেন।

বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে উদ্ধার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় তথ্য আদান-প্রদান কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ২২৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে। প্রায় ২০ জন আহত শ্রমিক স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিশ্বের মোট ‘কলটান’ (যা মোবাইল ও ল্যাপটপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়) সরবরাহের প্রায় ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ আসে এই রুবায়া খনি থেকে। ২০২১ সালে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার পর রুয়ান্ডার সহায়তায় ২০২৪ সালের এপ্রিলে এম২৩ সশস্ত্র গোষ্ঠী এই খনিটির দখল নেয়। জাতিসংঘ ও কঙ্গো সরকারের অভিযোগ, বিদ্রোহীরা অবৈধভাবে খনিজ সম্পদ লুট করে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অর্থায়ন করছে।

কিনশাসা সরকার এই ট্র্যাজেডির জন্য বিদ্রোহীদের ‘বেআইনি দখলদারি ও লুটতরাজকে’ দায়ী করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিপর্যয়ের ভয়াবহতা উপলব্ধি করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে খনিটিতে সব ধরনের খনন কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।