• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

ট্রাম্পের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলেন যুবরাজ রেজা পাহলভি


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:০৪
ছবির ক্যাপশন: ad728

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানে সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মুখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি। আন্দোলনরত সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং বর্তমান সরকারকে উৎখাত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের উদ্দেশে পাহলভি বলেন, “জনাব প্রেসিডেন্ট, আমি জরুরিভিত্তিতে আপনার মনোযোগ, সমর্থন এবং পদক্ষেপ আশা করছি। গত রাতে ইরানের লাখ লাখ সাহসী মানুষকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলি ছোড়া হয়েছে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার টিকে থাকার সর্বশেষ পন্থা হিসেবে সহিংসতাকে বেছে নিয়েছেন।”

রেজা পাহলভি তার বার্তায় আরও জানান যে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্ববাসী সঠিক তথ্য পাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, “ইরানের জনগণ এখন বুলেটের মুখোমুখি। সরকার পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দিয়েছে। ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে ল্যান্ডলাইন— সব পরিষেবা এখন অকার্যকর।”

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজারের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট থেকে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘদিনের মুদ্রাস্ফীতি, ইরানি রিয়ালের রেকর্ড পতন এবং জীবনযাত্রার অসহনীয় ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন সাধারণ মানুষ। কয়েক দিনের মধ্যেই এই আন্দোলন ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিক্ষোভকারীরা পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন।

মার্কিন সাময়িকী ‘টাইমস’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ দিনে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০০ বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানের এই অস্থিরতা নিয়ে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইতোমধ্যেই চারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান সরকার যদি জোরপূর্বক বা নৃশংসভাবে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে সামরিক অভিযান চালাতে দ্বিধা করবে না। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর ট্রাম্পের এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।