কৃষকদের স্বার্থে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ, ব্যবসায়ীদের চাপ উপেক্ষা: জানালেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ৬:০৯
স্বপ্নভূমি ডেস্ক : দেশের কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য সরকার পেঁয়াজ আমদানি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আমদানি করার জন্য প্রবল চাপ এবং এমনকি আইনি হস্তক্ষেপের চেষ্টা সত্ত্বেও সরকার এই সিদ্ধান্ত বজায় রেখেছে বলে জানান তিনি।
বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, দেশে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। তিনি স্বীকার করেন, মাঝখানে পেঁয়াজের দাম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে তা কমে ৯৫ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে চলে এসেছে।
তিনি জানান, কৃষকদের হাইফ্লো মেশিন দেওয়ায় তারা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখতে পেরেছেন। পাশাপাশি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্ভাবিত নতুন জাতের পেঁয়াজ এবং মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু করায় দাম বাড়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই।
উপদেষ্টা বলেন, "কিছু কিছু কুচক্রী থাকেন, যারা পেঁয়াজ আমদানি করতে পাগল হয়ে যান। এই আমদানি করলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কৃষকরা একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা আর পেঁয়াজ চাষের দিকে যাবেন না। এজন্য আমাদের কৃষকের দিকে তাকাতে হবে সবসময়।" তিনি সাংবাদিকদের কৃষকদের প্রতিবাদের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তবে, আলু চাষিদের প্রসঙ্গে উপদেষ্টা কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আলু চাষ করে কৃষকরা এবার তেমন দাম পাননি। তিনি মনে করেন, "আলুর দাম আরও বাড়া দরকার।" কৃষকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য কোল্ড স্টোরেজগুলোকে নভেম্বর মাস পেরিয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত আলু সংরক্ষণ করতে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
বৃষ্টির কারণে আগাম আলু বাজারে আসতে কিছুটা দেরি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, "তবে আলু চাষি বাদে অন্য যারা এটির সঙ্গে জড়িত, তারা সবাই লাভবান হয়েছেন। কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা।"
দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে উপদেষ্টা জানান, এবার আমনের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। প্রায় ৫০ শতাংশ আমন ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে।
"যদি কোনো বড়ো ধরনের সমস্যা না হয়, এবার আল্লাহ দিলে আমাদের আমনও বাম্পার হবে।"
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এর আগে বোরো ধানের ফলনও ১৫ লাখ টন অতিরিক্ত হয়েছিল।
সার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত আছে। তিনি কঠোরভাবে হুঁশিয়ারি দেন যে, "কোনো অবস্থায় আমাদের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এক পয়সাও যেন বেশি নিতে না পারে।" সারের মূল্য নিয়ে দুর্নীতির বিষয়ে নজরদারি করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
গ্যাসের দাম বাড়লেও সারের দামের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করেন, "সারের দাম আগে যা ছিল এখনও তা আছে এবং ভবিষ্যতেও তা থাকবে। আমরা অন্তত যতদিন আছি। সারের দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।"
উপদেষ্টা আরও বলেন, সবজির দাম এখন নিচের দিকে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যদি সাইক্লোনজনিত কোনো সমস্যা না হয়, তবে সবজির ফলন ভালো হবে এবং দামও একটি সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :