ইউনিয়ন বিএনপির শোকসভায় যবিপ্রবি উপাচার্য, সমালোচনার ঝড়
Swapnobhumi
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪২
স্টাফ রিপোর্টার,যশোর:
ইউনিয়ন বিএনপির শোকসভা ও আলোচনা সভায় যোগ দেওয়ায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদের কড়া সমালোচনা করেছেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের এমন কর্মকাণ্ডে রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনীতি প্রবেশের আশংঙ্কা করছেন তারা।
জানা যায়, রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইদের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা করেন নেটিজেনরা। এসময় বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাই শিক্ষার্থীরা। যবিপ্রবির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব বলেন, একজন ভিসি একটি রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রোগ্রামে যাচ্ছে, বক্তৃতা দিচ্ছে, আর আপনারা বলেন যবিপ্রবি রাজনীতি মুক্ত! প্লিজ “রাজনীতি মুক্ত যবিপ্রবি” এই স্ক্যাম আর ছড়াইয়েন না। ভিসির সাম্প্রতিক কর্মকান্ড প্রমাণ করে ক্যাম্পাসে “জাতীয়তাবাদী” গোষ্ঠীর পেছনে ভিসিই আছে। অদূর ভবিষ্যতে আমরা হয়তো ছাত্রলীগের মতো আরেকটা আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীকে দেখতে পাবো। শেইম অন ভিসি, না রাখলেন জুলাইয়ের আকাঙ্খা! না রাখলেন যবিপ্রবির মানসম্মান!
বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএমই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী রাকিব হাসান রাফি লিখেন, রাজনীতি নিষিদ্ধ চাওয়া প্রশাসনের ভিসিই যখন নির্বাচনী প্রচারণায় যায়। ভিসি স্যারের মেধা চমৎকার সবাই বলে। আর এখন দেখি মেরুদণ্ডের অবস্থা কত দূর্বল।
এছাড়া শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আমলে স্থানীয় রাজনীতির আশ্রয়ে ক্যাম্পাসে আওয়ামী-ছাত্রলীগ টেন্ডার, নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের শহরে ও হলের রুমে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করত। বিএনপির দলীয় প্রোগ্রামে রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসের উপাচার্যের রাজনৈতিক শোকসভায় যোগদান যবিপ্রবিকে পূর্বের অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সময় থাকতে সকল শিক্ষার্থীদের উচিত প্রশাসনের রাজনৈতিক গোলামির লাগাম টেনে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা। যবিপ্রবি ক্যাম্পাসকে কোন রাজনৈতিক দলের কাছে ইজারা দিতে চাই না। আমাদের ক্যাম্পাস শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য হবে রোল মডেল।
এ বিষয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ বলেন, শোক সভাটি বিএনপির দলীয় প্রোগ্রাম ছিল না। এটি এলাকাবাসীর প্রোগ্রাম ছিল। খালেদ জিয়া এখন দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের, উনার স্মরণে এ প্রোগ্রামটি হয়েছে। এটি কোন রাজনৈতিক প্রোগ্রামও ছিল না। এখানে অংশগ্রহণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অপমানের কিছুই নেই, এলাকারবাসীর সাথে সুসম্পর্ক রাখতেই এমন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করা।
আপনার মতামত লিখুন :