
গতকাল বুধবার এক দিনে গাজায় অনাহার ও অপুষ্টিতে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। ২৭ অক্টোবরের পর থেকে উপত্যকায় প্রাণ হারিয়েছে ৩১৩ জন, শিশু ১১৯ জন। পাশাপাশি বোমা হামলা ও ত্রাণ বিতরণের আড়ালে হত্যাকাণ্ড চলছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, বুধবার একদিনে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৭৫ জন নিহত ও ২৬৮ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ৬২,৮৯৫ জন নিহত ও ১,৫৮,৯২৭ জন আহত হয়েছেন, যেখানে অধিকাংশই নারী ও শিশু।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমেছে। এতে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তীব্র হচ্ছে। উপত্যকার অন্তত ১০ লাখ শিশু ভয়াবহ অপুষ্টির ঝুঁকিতে আছে। গাজার অর্ধেকের বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের মোকাবিলা করছে। সংস্থাটি জানাচ্ছে, ইসরায়েল কোনো নীতি-নিয়ম মানছে না।
গাজার আল নাসের হাসপাতালে সোমবার ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ওই হামলায় ৫ সাংবাদিকসহ ২১ জন নিহত হন। প্রথম হামলার ১৫ মিনিট পর দ্বিতীয় হামলা চালানো হয়। মেলোনি বলেন, “এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর অগ্রহণযোগ্য হামলা।” তিনি গাজায় আগ্রাসন বন্ধেরও আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে বিশ্বের সাংবাদিক সংগঠনগুলোও নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাজ্য বলেছে, বেসামরিক নাগরিক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে হবে এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।
এমএসএফ জানায়, গাজায় তাদের অস্থায়ী চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রে যারা চিকিৎসা নিয়েছে, তার এক-তৃতীয়াংশই শিশু। ছয়টি চিকিৎসা কেন্দ্রের মাধ্যমে তারা মোট ৯০,০০০ জনকে চিকিৎসা দিয়েছে, যারা বোমা, কামানের গোলা ও গুলিতে আহত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :