• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

ট্রাম্পের নীতি ও বিশ্বব্যবস্থার সংকট: বিস্ফোরক মন্তব্য জার্মান প্রেসিডেন্টের


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:৪৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 
বার্লিন বিশ্বের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নজিরবিহীন কঠোর মন্তব্য করেছেন জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক-ওয়াল্টার স্টেইনমায়ার। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং এটি যেন কোনোভাবেই ‘ডাকাতদের আস্তানায়’ পরিণত না হয়।

বুধবার গভীর রাতে এক সিম্পোজিয়ামে দেওয়া বক্তব্যে স্টেইনমায়ার যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রভাবশালী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি মনে করেন, যে দেশটি একসময় বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দিয়েছিল, সেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের ভাঙন এখন বিশ্বজুড়ে এক বড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জার্মানির সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের ওপর আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় আক্রমণ চলছে। এই ধরনের আক্রমণ আমরা আগে কখনো দেখিনি।" তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নৈতিকতা-বিবর্জিত শক্তিগুলো যদি শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তবে তারা যা খুশি দখল করে নিতে শুরু করবে। তিনি বলেন, "বিশ্বকে ডাকাতদের আখড়ায় পরিণত হতে দেওয়া যাবে না—যেখানে অঞ্চল বা পুরো দেশকে কয়েকটি বৃহৎ শক্তির সম্পত্তি মনে করা হয়।"

ধারণা করা হচ্ছে, গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করেই তিনি এই অস্বাভাবিক কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল এবং ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনকে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আচরণ একটি ‘ঐতিহাসিক বিচ্ছেদে’র প্রতিনিধিত্ব করছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এই বিশ্ব পরিস্থিতিতে সক্রিয় হস্তক্ষেপের প্রয়োজন উল্লেখ করে স্টেইনমায়ার বলেন, শুধু পশ্চিমা দেশ নয়, বরং ব্রাজিল ও ভারতের মতো ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী দেশগুলোকেও এই বিশ্বব্যবস্থা রক্ষায় রাজি করাতে হবে।

জার্মানিতে প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত অলঙ্কারিক হলেও ফ্রাংক-ওয়াল্টার স্টেইনমায়ার একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশটিতে রাজনীতিবিদদের তুলনায় প্রেসিডেন্টের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বেশি থাকায় তার এই বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।