৫ বছর পর মিয়ানমারে ভোটগ্রহণ শুরু, নেই সু চির এনএলডি
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:০৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর মিয়ানমারে শুরু হয়েছে জাতীয় পার্লামেন্ট ও প্রাদেশিক আইনসভার ভোটগ্রহণ। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম দেশটিতে নির্বাচনের আয়োজন করল জান্তা সরকার। আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে তিন ধাপের এই নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আজকের প্রথম ধাপে রাজধানী নেইপিদো, বাণিজ্যিক শহর ইয়াঙ্গুন এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়সহ সামরিক জান্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকা শহর ও গ্রামাঞ্চলগুলোতে ভোট নেওয়া হচ্ছে। ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত।
২০২০ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল বিজয় অর্জন করলেও কারচুপির অভিযোগ তুলে ক্ষমতা দখল করেছিল সেনাবাহিনী। এবারের নির্বাচনে নেই সেই এনএলডি; ২০২৩ সালে জান্তা নিয়ন্ত্রিত কমিশন দলটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে। গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি বর্তমানে কারাগারে বন্দি, যেখানে বিভিন্ন অভিযোগে তার ১৫০ বছরের কারাদণ্ডের শঙ্কা রয়েছে। এনএলডি ছাড়াও দেশটির অধিকাংশ বিরোধী দল এই নির্বাচন বর্জন করেছে।
বিরোধী দলগুলো না থাকায় এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট দল ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’। বিশ্লেষকদের ধারণা, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় জান্তা সমর্থিত এই দলই পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। অং সান সু চির ছেলে কিম অ্যারিস এই নির্বাচনকে ‘অর্থহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।
নির্বাচন চললেও পুরো মিয়ানমারে তা সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৩ সাল থেকে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উত্থানে রাখাইনসহ দেশটির প্রায় ৩৩ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে সেনাবাহিনী। আরাকান আর্মি ও কারেন লিবারেশন ফোর্সের মতো গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্তত পাঁচটি প্রদেশে কোনো ভোটগ্রহণ হচ্ছে না। এমনকি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও জান্তার কোনো প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেই।
দেশটির বড় একটি অংশ গৃহযুদ্ধে লিপ্ত থাকায় এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশ না নেওয়ায় এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লেইং এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজের শাসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করলেও মিয়ানমারের সাধারণ জনগণের বড় একটি অংশ এবং বহিির্বিশ্ব একে ‘প্রহসন’ হিসেবেই দেখছে।
আপনার মতামত লিখুন :