• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

মুখ ফিরিয়েছে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব: ভারতের পেঁয়াজ বাজার গভীর সংকটে


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ৬:৫৪
ছবির ক্যাপশন: ad728

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ডেস্ক : ভারতের পেঁয়াজের বাজার সাম্প্রতিক সময়ে এক গভীর মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একসময়ের বড় ক্রেতা বাংলাদেশ ও সৌদি আরব ভারত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় নয়াদিল্লির পেঁয়াজ চাষিরা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছেন। সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, এই পরিস্থিতির জন্য ভারত নিজেই দায়ী।

মূলত, অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার অজুহাতে ভারত সরকার একাধিকবার পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় আমদানিকারী দেশগুলো এখন পাকিস্তান ও চীনের মতো বিকল্প বাজার খুঁজে নিয়েছে।

ভারতের পেঁয়াজ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসময় তাদের মোট রপ্তানির চারভাগের তিনভাগ যেত বাংলাদেশে। কিন্তু গত প্রায় আট মাস ধরে ঢাকা খুবই কম পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করছে, যদিও বাংলাদেশে বর্তমানে পেঁয়াজের দাম আগের তুলনায় তিনগুণ বেশি।

রপ্তানিকারকদের মতে, বারবার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দেওয়াই ক্রেতা দেশগুলোকে মুখ ফেরাতে বাধ্য করেছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ছয় মাসের জন্য এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আরও পাঁচ মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ভারত। এর ফলে ভারতের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোতে পেঁয়াজের দাম মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এমনকি ২০২০ সালে বাংলাদেশ ভারতের ঘন ঘন এই নীতি পরিবর্তনের বিরুদ্ধে একটি কূটনৈতিক নোটও পাঠিয়েছিল।

রপ্তানিকারকরা বলেছেন, একসময় ভারতের পেয়াজ রপ্তানিকারকদের মুখে বাংলাদেশ হাসি ফোটালেও, এখন বাংলাদেশের কারণে কাঁদছে তারা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ৭.২৪ লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল (মোট রপ্তানির ৪২ শতাংশ)। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন পেঁয়াজ কিনেছে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রায় এক বছর ধরে সৌদি আরবও ভারত থেকে খুব কম পেঁয়াজ কিনছে। রপ্তানিকারকদের সঙ্গে আলোচনার পর ভারত সরকার জানতে পেরেছে, সৌদি আরব মূলত ইয়েমেন এবং ইরান থেকে কম দামে পেঁয়াজ পাওয়ায় ভারতীয় রপ্তানিকারকদের অনুমোদন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

আমদানিকারক অজিত শাহ ইকোনোমিক টাইমসকে বলেন, “আমরা আমাদের পেঁয়াজের কোয়ালিটির জন্য ভালো দাম পেতাম। কিন্তু রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে না থাকায় আমাদের ক্রেতারা বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজেছে। এখন ক্রেতারা আর কোয়ালিটি দেখে না, তারা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর দামের দিকে নজর দেয়।”

এই সংকটের চেয়েও বড় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে একটি নতুন সতর্কতা। খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভারত স্থানীয় বাজারে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাজার থেকে দূরে থাকার সুযোগে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ ব্যবহার করে নিজেদের উৎপাদন বৃদ্ধি করছে এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য পাশা প্যাটেল সতর্ক করে বলেছেন, “আমরা শুধুমাত্র আমাদের ঐতিহ্যগত ক্রেতাদের হারাইনি, তারা ভারতের পেঁয়াজ বীজ ব্যবহার করে নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া শুরু করেছে।” রপ্তানিকারকরাও জানিয়েছেন, অবৈধভাবে ভারতের পেঁয়াজের বীজ বাংলাদেশসহ অন্যান্য ক্রেতাদের কাছে চলে যাচ্ছে, যা এই খাতে ভারতের বহুদিনের আধিপত্যকে দুর্বল করে দিচ্ছে।