পেট্রাপোল চেকপোস্টে ভোগান্তির সঙ্গে বাড়ল খরচও
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৮
বেনাপোল প্রতিনিধি:
নতুন বছরের শুরুতেই বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলপথ দিয়ে ভারত যাতায়াতকারী পাসপোর্ট যাত্রীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপের বোঝা চেপেছে। গত ১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে ভারতের পেট্রাপোল ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টে (আইসিপি) নতুন করে ‘প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জ (পিইউসি)’ আদায় শুরু হয়েছে। ফলে প্রতিটি যাত্রীকে এখন আগের চেয়ে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৫০০ রুপি পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এলপিএআই) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারত ও বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য জিএসটিসহ এই চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ রুপি। তৃতীয় দেশের নাগরিকদের জন্য এই ফি ৫০০ রুপি বা ৫ মার্কিন ডলার। তবে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কিছুটা স্বস্তি দিয়ে ফি রাখা হয়েছে ৫০ রুপি।
পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নবনির্মিত আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনে উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতেই এই চার্জ পুনরায় চালু করা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং দীর্ঘ লাইন এড়াতে দ্রুতই ডিজিটাল বুকিং ব্যবস্থা ও কিউআর কোড স্ক্যান সুবিধা সম্বলিত মোবাইল অ্যাপ চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।
আগে যেখানে কোনো চার্জ ছাড়াই পেট্রাপোল পার হওয়া যেত, সেখানে হঠাৎ এই বাড়তি খরচে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। ভারতগামী যাত্রী কামাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশে ১ হাজার টাকা ট্রাভেল ট্যাক্স ও ৫৬ টাকা পোর্ট ট্যাক্স দিয়ে বের হওয়ার পর এখন ভারতে ঢুকে আবার টাকা দিতে হচ্ছে। যারা চিকিৎসার জন্য ভারতে যান, তাদের জন্য এটা অনেক বড় বোঝা।”
আরেক যাত্রী তাশফি ফাইজা বলেন, “ভিসা জটিলতা কমবে আশা করেছিলাম, কিন্তু উল্টো খরচ বেড়ে গেল। সাধারণ মানুষের জন্য এটি সত্যিই কষ্টের।”
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালেও পেট্রাপোলে প্রায় ১০০ রুপি চার্জ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় যাত্রী অসন্তোষ এবং পরবর্তীতে করোনা মহামারির কারণে যাতায়াত বন্ধ থাকায় সেই নিয়ম কার্যকর থাকেনি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই ফি কার্যকর হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ভারতীয় ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি এই চার্জ আদায় করছে বলে যাত্রীদের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।
সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতকারী ভুক্তভোগীদের দাবি, অন্তত চিকিৎসা ও জরুরি মানবিক কারণ বিবেচনায় নিয়ে এই চার্জ পুনর্বিবেচনা বা শিথিল করা উচিত।
আপনার মতামত লিখুন :