• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ কার্যকর হচ্ছে


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:৪৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ১৫ হাজার ডলারের ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত আরোপের বিষয়টিকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে ইমিগ্রেশন সমস্যার প্রেক্ষাপটে এটি ‘অস্বাভাবিক’ নয় বলেও মনে করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি, ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ছাড়াও আরও ৩৭টি দেশের ওপর এই শর্তারোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন।

ভিসা বন্ড আরোপের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমেরিকা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। যাদের ইমিগ্রেশন নিয়ে সমস্যা আছে, তাদের ওপরই এই কড়াকড়ি। মার্কিনিদের কৌশল অনুযায়ী দেখা গেছে, যারা তাদের সোশ্যাল সিস্টেম থেকে টাকা নেয়, তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সর্বাধিক।”

এই পরিস্থিতির দায়ভার সম্পর্কে তিনি বলেন, “এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। যদি পলিসিগতভাবে কারও ওপর দায় থাকে, তবে তা পূর্ববর্তী সব সরকারের ওপর বর্তায়। আমরা এটি পরিবর্তন করতে পারিনি, কারণ মানুষের এই অভিবাসন প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করার সাধ্য কোনো সরকারেরই ছিল না।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বর্তমান সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “প্রথম দিন থেকেই আমরা অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কথা বলছি। এখনো ভূমধ্যসাগরে মানুষ মরছে বা উদ্ধার হচ্ছে। তারা ভিকটিম ঠিকই, কিন্তু পাশাপাশি আইনও ভঙ্গ হচ্ছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, গ্রামের সাধারণ একজন যুবক কীভাবে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে তুরস্ক বা কেনিয়া পর্যন্ত যায়? এই প্রবাহ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত বা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। গত মঙ্গলবার নতুন করে ২৫টি দেশের নাম যুক্ত করায় এই তালিকা দীর্ঘ হয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য এই শর্ত আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “বিষয়টি মাত্র সামনে এসেছে। আমরা সাধারণ কূটনৈতিক পদ্ধতিতে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করব এবং চেষ্টা করব যেন আমাদের এই শর্ত থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।”