চৌগাছায় কাউন্সিলর শাহিন হত্যায় বিএনপি-যুবদলের ১১ নেতাকর্মীর নামে মামলা, আটক হয়নি কেউ
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৬
চৌগাছা প্রতিনিধি
যশোরের চৌগাছা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা শাহিনুর রহমান শাহিন হত্যার ঘটনায় পৌর বিএনপি ও যুবদলের ১১ নেতাকর্মীর নামে মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী। ২৬ ফেব্রæয়ারী (বৃহস্পতিবার) রাতে চৌগাছা থানায় এই মামলা নথিভূক্ত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি রেজাউল ইসলাম।
মামলায় আসামীরা হলেন, চৌগাছা পৌর বিএনপির প্রথম সহসভাপতি হুদা চৌগাছা গ্রামের মোবারক হোসেনের পাঁচ ছেলে যথাক্রমে ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর প্রার্থী ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহবায়ক সালাহউদ্দীন, বিএনপি কর্মী শরিফুল ইসলাম কালু, বিএনপি কর্মী হাসিবুল ইসলাম ও পৌর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ জালাল উদ্দীন, একই গ্রামের ইসরাফিল হোসেনের ছেলে টিপু , রাজ্জাকের ছেলে ফারুক, কুঠিপাড়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মাফি ও শফিকুলের ছেলে নাহিদ এবং ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পুটের ছেলে চাঁদপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম ফিকির ও ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মৃত আমির হোসেনের ছেলে স্বপনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫জন। আসামীরা সবাই চৌগাছা পৌর বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী।
গত ১৬ ফেব্রæয়ারী বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার স্বীকার হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ ফেব্রæয়ারী সন্ধ্যায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মামলার এজহারে নিহত শাহিনের স্ত্রী উল্লেখ করেছেন, নিহত শাহিন চৌগাছা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের পরপর দুইবার নির্বাচিত কাউন্সিলর ছিলেন এবং ১নং আসামী সাইফুল ইসলাম তার মূল প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী হিসেবে দুইবারই শাহিনের কাছে পরাজিত হয়। ফলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে ১নং আসামীর পরিবারের লোকজন বরাবরই শাহিনের ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজে বেড়াইত। এর প্রেক্ষিতে শাহিন দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান করত। গত ১২ ফেব্রæয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন ১৩ তারিখে সে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরে। গত ১৬ ফেব্রæয়ারী বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাজার থেকে চুল ছাটাইয়া বাড়ি ফেরার পথে কুঠিপাড়া মোড়ের শফিকুলের ইজিবাইকের দোকানের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামীরা তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে গতিরোধ করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও এলোপাড়াতি কিলঘুষি দিয়ে আহত করে। শাহিনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারপিটের একপর্যায়ে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও তাকে রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারপিট করে। এসময় স্থানীয়রা তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসলে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আমার স্বামীকে গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। গ্রামের লাবনী নামে এক নারীর মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি ঘঁটনাস্থলে পৌছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রথমে আমার স্বামীকে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইকে করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। তবে তার শারিরিক অবস্থার ভীষণভাবে অবনতি হলে তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) এর আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৩ ফেব্রæয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বাক্ষী ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের সাথে কথা বলে এবং ঘটনাস্থলের ইজিবাইকের দোকানের সিসিটিভি পর্যালোচনা করে এজহার দায়ের করা হলো।
চৌগাছা থানার ওসি রেজাউল ইসলাম বলেন, এবিষয়ে নিহতের স্ত্রীর দেয়া এজহার মামলা হিসেবে নথিভূক্ত হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
আপনার মতামত লিখুন :