• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

শবে মেরাজে যে ভুলগুলো অজান্তেই করছি আমরা!


FavIcon
Swapnobhumi
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:০৫
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক:
আজ ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, পবিত্র ২৭ রজব। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ। মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রাতভর ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল রয়েছেন। তবে এই মহিমান্বিত রাতটিকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে এমন কিছু প্রথা ও ইবাদতের প্রচলন ঘটেছে, যার কোনো ভিত্তি কোরআন ও হাদিসে নেই। না জেনে অনেক মুসলিমই এই ভুলগুলো করে চলেছেন।
সাধারণত সমাজে প্রচলিত আছে যে, শবে মেরাজ উপলক্ষে ১২ রাকাত বা নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার বিশেষ নামাজ আদায় করতে হয়। কিন্তু বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামি গবেষকদের মতে, শবে মেরাজ উপলক্ষে বিশেষ কোনো নামাজের কথা শরিয়ত দ্বারা প্রমাণিত নয়। সালাতুর রাগায়েবসহ এ সংক্রান্ত যে হাদিসগুলো প্রচলিত, সেগুলোকে বিজ্ঞ আলেমরা 'ভিত্তিহীন' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। হিজরি ৪০০ সালের পর এসব প্রথা সমাজে প্রবেশ করেছে যা সাহাবায়ে কেরামের যুগে ছিল না।
অনেকে মনে করেন, ২৭ রজব বা শবে মেরাজের পরের দিনের রোজা রাখা আশুরা কিংবা আরাফাতের দিনের রোজার মতো বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রজব মাসের নির্দিষ্ট কোনো দিনের রোজার বিশেষ ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) থেকে কোনো সহিহ হাদিস বর্ণিত নেই। তবে এই মাসে সাধারণ নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
শবে মেরাজকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ পদ্ধতি বা নির্ধারিত রাকাত সংখ্যা না থাকলেও এই রাতে সাধারণ নফল ইবাদত করতে কোনো বাধা নেই। একজন মুসলিম চাইলে অন্য যেকোনো সাধারণ রাতের মতো এই রাতেও নফল নামাজ পড়তে পারেন, কোরআন তিলাওয়াত বা জিকির করতে পারেন। তবে এটিকে 'আবশ্যক' বা 'নির্ধারিত পদ্ধতি' মনে করাটাই হলো বড় ভুল।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, শবে মেরাজের এই সময়টি মূলত আসন্ন রমজানের প্রস্তুতির মাস। রাসুল (সা.) এই মাস থেকেই দোয়া করতেন— ‘হে আল্লাহ, রজব ও শাবান মাসে আমাদের বরকত দিন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ সুতরাং এই রাতের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বেশি বেশি নফল ইবাদত এবং তওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিজেকে রমজানের জন্য তৈরি করা।
শবে মেরাজ আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শিক্ষা দেয়। তাই কেবল একটি রাতে ঘটা করে ইবাদত না করে, সেই শিক্ষার আলোকে সারা বছর নিয়মিত নামাজ আদায়ের সংকল্প করাই হবে এই রাতের প্রকৃত শিক্ষা।