• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোরে রাস্তার কাজে নিম্ন মানের ইট ব্যবহার, ক্ষুব্ধ পিআইও


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

মনিরামপুর প্রতিনিধি :
মনিরামপুরের রঘুনাথপুরে একটি মাটির রাস্তা সলিং করার কাজে নিম্ম মানের ইট ও পরিমানে কম বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মুনসুর আলীর তত্ত্বাবধানে রাস্তাটির সংস্কার কাজ চলছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর দুই দফা পরিদর্শনে এসে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)  সেলিম খান নিজে রাস্তা পরিদর্শনে এসে কাজের মান দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুনসুর আলী সর্বোচ্চ দামে ইট কিনে রাস্তায় ব্যবহার করার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, অন্য প্রকল্পের সভাপতিদের থেকেও দুই হাজার টাকা বেশি দাম দিয়ে প্রতি ট্রাক ইট কেনা হয়েছে। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরের সূত্রমতে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় রঘুনাথপুর দেবির বাড়ির মোড় হতে মোন্তাজ উদ্দিনের বাড়ির অভিমুখী মাটির রাস্তা সলিংয়ের কাজে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় পিআইও দপ্তর। মোট বরাদ্দের অর্ধেক টাকা তুলে গত সপ্তাহে রাস্তায় ইট ও বালু ফেলেন খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মুনসুর আলী। তিনি রাস্তাটির কাজ তদারকি করছেন। এসময় ইটের মান দেখে আপত্তি তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে গত শনিবার পিআইও দপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী গোলাম সরোয়ার পরিদর্শনে এসে রাস্তার দুপাশে ফেলে রাখা নিম্ন মানের ইট দেখতে পান। 
সরোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তায় যে ইট ফেলা হয়েছে তার অর্ধেক ইটের মান খারাপ দেখেছি। তখন প্রকল্পের সভাপতি মুনসুর আলীকে খারাপ ইট সরিয়ে ভাল ইটে কাজ করতে বলে এসেছি।


এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকৌশলী সরোয়ার হোসেন ঘুরে যাওয়ার পর খারাপ ইট হতে অল্প কিছু সরিয়ে ফেলেন সভাপতি। এরপর বাকি খারাপ ইটগুলো রাস্তার সলিং করার কাজে তিনি ব্যবহার করছেন।

সোমবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সেলিম খান সরেজমিন রঘুনাথপুরের সেই রাস্তায় এসে নিম্নমানের ইটের সলিং দেখতে পান। রাস্তার দুপাশে নিম্নমানের ইট পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। এসময় তিনি রাস্তায় ব্যবহার করা বালুর পুরুত্ব (থিকনেস) কম পেয়েছেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পিআইও।
এদিকে পিআইও সেলিম খান সোমবার একই সময়ে খেদাপাড়া ইউনিয়নের মামুদকাটি গ্রামে দুই ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ও লিটন হোসেনের তত্ত্বাবধানে চলা চারটি রাস্তার সলিং কাজ পরিদর্শন করে ইটের মান ভাল পেয়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন।


পিআইও সেলিম খান বলেন, মনিরামপুরে যোগদানের পর আমি প্রকল্পের সভাপতিদের বিলে স্বাক্ষর করার সময় এক নম্বর ইট ও সঠিক পরিমাণে বালু ব্যবহার করে রাস্তার সলিং কাজ সম্পন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছি। আজ খেদাপাড়া ইউনিয়নের মামুদকাটি ও রঘুনাথপুর গ্রামের পাঁচটি রাস্তার সলিং কাজ পরিদর্শন করেছি। মামুদকাটি গ্রামের চারটি রাস্তার ইটের মান ভাল পেয়েছি। তবে তারা রাস্তার কয়েক অংশে পরিমানে কম বালু ব্যবহার করার প্রমাণ পেয়েছি।
পিআইও আরও বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুনসুর আলীর তত্ত্বাবধানে চলা রঘুনাথপুরের রাস্তাটিতে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছি। দেখেছি, তিনি রাস্তায় সঠিক পরিমাণ বালু ব্যবহার করছেন না। 

মুনসুর আলীকে নিম্নমানের ইট সরিয়ে ভাল ইট দিয়ে ও সঠিক পরিমান বালু ব্যবহার করে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করতে বলেছি। তিনি সঠিকভাবে কাজ না করালে তার দ্বিতীয় ভাগের বিল আটকে দেওয়া হবে।