'জুলাই সনদ' নিয়ে রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান: একমত না হলে সরকার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৫, ১১:২১
স্বপ্নভূমি ডেস্ক : বহুল আলোচিত 'জুলাই জাতীয় সনদ' বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৈরি হওয়া মতভেদ দ্রুত নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাজনৈতিক দলগুলো নিজ উদ্যোগে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে একটি ঐক্যবদ্ধ দিক-নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হলে, সরকার নিজস্ব বিবেচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার পর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের 'করবী হলে' আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
আইন উপদেষ্টা জানান, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে, তা নিরসনে সরকার হস্তক্ষেপ না করে বরং দলগুলোকেই নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করতে বলেছে।
"রাজনৈতিক দলগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত দিতে না পারে, তাহলে সরকার তার মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে।" — ড. আসিফ নজরুল, আইন উপদেষ্টা
তবে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল স্পষ্ট করেন, সরকার কোনো 'এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম' দেয়নি, বরং আলাপ-আলোচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা অপেক্ষা করব। তারপর সরকার সরকারের মতো পদক্ষেপ নেবে।"
আইন উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিগত ১৫ বছরে বহু আলোচনা করেছে এবং চরম প্রতিকূল সময়েও একসঙ্গে আন্দোলন করেছে ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাই সরকার প্রত্যাশা করে, তারা এখন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা দেবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত দিতে পারলে সরকারের জন্য কাজটি অত্যন্ত সহজ হয়। কিন্তু তারা যদি তা দিতে না পারে, তবে চূড়ান্তভাবে সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ কবে জারি হতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, "আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে একটু সময় দিতে চাই। আমরা একটু দেখি।"
এর আগে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :