জুলাইযোদ্ধা সুরভীর মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ,মিলল জামিন
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৯
স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
গাজীপুরে আলোচিত আসামি সুরভীর প্রকৃত বয়স নিয়ে চরম বিভ্রান্তি ও পুলিশের প্রতিবেদনে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় গভীর উষ্মা প্রকাশ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে, দুপুরে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলেও বিকেলে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ৪ সপ্তাহের জামিন পেয়েছেন সুরভী।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) গাজীপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ ফজলুল মাহদি এক আদেশে জানান, মামলার এজাহারে আসামির বয়স ২১ বছর উল্লেখ থাকলেও পুলিশ ফরোয়ার্ডিং রিপোর্টে তা ২০ বছর দেখানো হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শুনানির সময় আসামিপক্ষ বয়স নিয়ে কোনো আইনি আপত্তি না তুললেও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুরভী অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছরের নিচে) বলে দাবি করা হচ্ছে।
আদালত এই পরিস্থিতিকে তদন্তকারী কর্মকর্তার ‘চরম গাফিলতি ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা’ বলে মন্তব্য করেছেন। প্রকৃত বয়স নির্ধারণের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে আসামির মূল এনআইডি (NID) অথবা অনলাইন ভেরিফায়েড জন্মনিবন্ধন সনদসহ সশরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন দুপুরে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক সুরভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। এই আদেশের পরপরই আদালত চত্বরে ‘জাতীয় ছাত্র শক্তি’র ব্যানারে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা বিক্ষোভ শুরু করেন।
এরপর তড়িঘড়ি করে জেলা জজ আদালত-১ এ রিমান্ড আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করা হয়। বিকেলে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ অমিত কুমার দে শুনানি শেষে সুরভীর ৪ সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত চত্বরে বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, সুরভী একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী। পুলিশের প্রতিবেদনে বয়সের এই লুকোচুরি মামলার সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এখন তদন্ত কর্মকর্তার দাখিলকৃত নথির ওপরই নির্ভর করছে সুরভীর পরবর্তী আইনি গতিপথ।
আপনার মতামত লিখুন :