গোয়েন্দা বাহিনীর নিখুঁত তথ্যে যেভাবে হত্যা করা হয় খামেনিকে
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬, ১৩:৫২
স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে গত শনিবার এক যৌথ অভিযানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের দেওয়া নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতে তেহরানের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই হামলা চালানো হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তেহরানের মধ্যাঞ্চলে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপনীয় ভবনে হামলাটি চালানো হয়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, খামেনি তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে সেখানে একটি জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। হামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান প্রায় ৩০টি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করে ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন ট্র্যাকিং সিস্টেম খামেনির অবস্থান শনাক্ত করেছিল এবং এই হামলায় তাকেসহ অন্য শীর্ষ নেতারা নিহত হয়েছেন।
হামলায় কেবল খামেনি নন, প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের একঝাঁক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন:
- আলী শামখানি: প্রতিরক্ষা পরিষদের সেক্রেটারি।
- মোহাম্মদ পাকপুর: আইআরজিসি (IRGC) কমান্ডার।
- আজিজ নাসিরজাদেহ: প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।
- আব্দুর রহিম মুসাভি: সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ।
- সৈয়দ মজিদ মুসাভি: অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার।
এছাড়া ইরানের গোয়েন্দা উপমন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজিসহ প্রায় ৪০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং খামেনির পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য (মেয়ে, জামাতা, নাতি ও পুত্রবধূ) এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে ফারস নিউজ এজেন্সি।
এই ঘটনার পর ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, "হামলার আদেশদাতারা শিগগিরই তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা করবে।" খামেনির মৃত্যুর পর বর্তমানে দেশটির সংবিধান অনুযায়ী তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল (প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগীয় প্রধান এবং একজন আলেম) দায়িত্ব পালন করছেন। শীঘ্রই ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ নতুন নেতা নির্বাচন করবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ইরানের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করবে। তবে সিআইএ-র আশঙ্কা, খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে আইআরজিসির কট্টরপন্থীরা ক্ষমতায় আসতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বর্তমানে পুরো ইরান জুড়ে চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে। আকাশসীমা বন্ধ থাকায় দেশটি এখন এক প্রকার বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :