• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

পাঁচ প্রকল্পের ৯ লাখ টাকা লোপাট সচিব-প্যানেল চেয়ারম্যানের


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১১:০৯
ছবির ক্যাপশন: ad728

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি উন্নয়নের ৯ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। পরিষদের সচিব মিজানুর রহমান ও প্যানেল চেয়ারম্যান-১ শওকত সরদারের বিরুদ্ধে এক কাজ দুইবার দেখিয়ে এবং ভুয়া প্রকল্প সাজিয়ে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করের (১%) বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশাত তামান্না নেহালপুর ইউনিয়নে ৫টি প্রকল্পের অনুকূলে ৮ লাখ ৯৪ হাজার ২৪০ টাকা বরাদ্দ দেন। প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছিল ২০ নারীকে সেলাই মেশিন প্রদান (৩ লাখ টাকা), রাস্তা সলিংকরণ (১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা), আরসিসি পাইপ স্থাপন (২ লাখ ৫০ হাজার টাকা), ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ (১ লাখ টাকা) এবং প্রজেক্টর-প্রিন্টার ক্রয় (১ লাখ টাকা)।

সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ বালিদায় যে রাস্তা সলিংকরণের জন্য দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে, সেই কাজটি অন্তত ৭ মাস আগে সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের আমলে অন্য প্রকল্পের অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছিল। একইভাবে, মৃত চেয়ারম্যানের নেওয়া সেলাই মেশিন বিতরণ প্রকল্পকেই নতুন বরাদ্দ দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি গত বছরের মার্চ মাসে কেনা প্রজেক্টর ও প্রিন্টারকে এই নতুন বরাদ্দের কেনাকাটা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন সচিব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব মিজানুর রহমান প্রথমে সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করলেও কোনো ভাউচার বা বিতরণী অনুষ্ঠানের ছবি দেখাতে পারেননি। এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, রাস্তার কাজ আগে হলেও ১% বরাদ্দ থেকে ব্যয় মেটানো হয়েছে। সেলাই মেশিনের বিষয়ে তিনি অসংলগ্ন উত্তর দিয়ে বলেন, "সামনে জুন মাস পর্যন্ত সময় আছে, সভাপতির সাথে আলোচনা করে দেখব।"

ইউনিয়ন পরিষদের অন্য সদস্যরা এই বিপুল বরাদ্দের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সচিব মিজানুর রহমান প্যানেল চেয়ারম্যান শওকত সরদারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সব প্রকল্পের সভাপতি বানিয়েছেন এবং যোগসাজশে টাকা তুলে নিয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শওকত সরদার প্রথমে সব বিতরণের দাবি করলেও পরে কাগজপত্রের অসংগতির বিষয়ে প্রশ্ন করলে "মিটিংয়ে আছেন" বলে এড়িয়ে যান।

বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন জানান, তিনি যোগদানের আগেই এই প্রকল্পগুলো অনুমোদিত হয়েছিল, তবে বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ যশোরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।