• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলা: শেখ হাসিনা-কামালের বিচারের রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ হবে ১৩ নভেম্বর


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৫৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক : বহু আলোচিত জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন আসামির বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৩ নভেম্বর এ মামলার রায়ের দিন নির্ধারণ করবেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

সমাপনী বক্তব্য ও সর্বোচ্চ সাজা দাবি: আজ বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে বিচারকাজ শুরু হলে প্রথমেই শেখ হাসিনার মামলায় সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হেভিওয়েট নেতাদের বিচারের মুখোমুখি হওয়ার নজির তুলে ধরে তিনি শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন।

পরে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তি উপস্থাপনের জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এরপর তাদের কিছু কথার পাল্টা উত্তর দেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন।

প্রসিকিউশনের অবস্থান: 'এভিডেন্স হিমালয়ের মতো দৃঢ়' প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, "আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। আমরা বলার চেষ্টা করেছি যে, আমরা এখানে যেসব এভিডেন্স উপস্থাপন করেছি তা হিমালয়ের মতো দৃঢ়। ক্রিস্টালের মতো স্বচ্ছ।"

তিনি আরও বলেন, "এসব এভিডেন্স দুনিয়ার যেকোনো আদালতে যদি তুলে ধরা হয়, তাহলে এই অপরাধীদের অপরাধ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হবে। আমরা লাইভ উইটনেস, ডিজিটাল এভিডেন্স এনেছি... যাকে অর্ডার দেওয়া হয়েছে তিনি আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।"

আসামিপক্ষের আবেদন: গতকাল বুধবার বিকেলে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) এবং রাজসাক্ষী (আসামি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে।

বুধবার বিকেল সোয়া ৩টার পর যুক্তিতর্ক শেষ করে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন হাসিনা-কামালকে নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন করেন। অন্যদিকে, রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আইনজীবীও তার খালাস চেয়েছেন।

মামলার পটভূমি: এ মামলায় প্রসিকিউশন গত ১৬ অক্টোবর টানা পাঁচদিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে শেখ হাসিনা ও কামালের চরম দণ্ড (মৃত্যুদণ্ড) চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানান। এ সময় তারা একাত্তর-পরবর্তী আওয়ামী লীগের ইতিহাসসহ ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলের চিত্র এবং গুম-খুন, হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা তুলে ধরেন।

এ মামলায় মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার এবং সাক্ষী করা হয়েছে ৮১ জনকে।