• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

ফাঁসির সেল থেকে সংসদের আসনে: বাবর, পিন্টু ও আজহারের নজিরবিহীন প্রত্যাবর্তন


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৩
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
মাথার ওপর ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি। জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপট যেন অলৌকিকভাবে বদলে দিল সব দৃশ্যপট। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরের কারাজীবন শেষে মুক্তি পেয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আইনসভায় ফিরছেন তিন আলোচিত রাজনৈতিক নেতা—লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং এ টি এম আজহারুল ইসলাম।

লুৎফুজ্জামান বাবর: নেত্রকোনায় বিপুল জয়
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৭ সালে গ্রেফতার হওয়ার পর দীর্ঘ ১৮ বছর বন্দি ছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত বছর ১৬ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তির পর নিজ এলাকা নেত্রকোনা-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। প্রাথমিক ফলে দেখা গেছে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন এক সময়ের দাপুটে এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।


আবদুস সালাম পিন্টু: টাঙ্গাইলে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়
বিএনপি নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ১৭ বছর কারাগারে কাটিয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর মুক্তি পান। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এই নেতার ফিরে আসা ছিল তার সমর্থকদের কাছে অনেকটা অবিশ্বাস্য। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি প্রায় ২ লাখ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছেন।


এ টি এম আজহারুল ইসলাম: রংপুরে জামায়াত নেতার চমক
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম ২০১২ সাল থেকে বন্দি ছিলেন। গত ২৮ মে তিনি মুক্তি পান। রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচন করে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। যেখানে ফাঁসির কাষ্ঠে যাওয়ার শঙ্কা ছিল, সেখানে জনরায়ের মাধ্যমে তিনি এখন সংসদ সদস্য হিসেবে নীতি নির্ধারণী ফোরামে যোগ দিচ্ছেন।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ কারাবাস এবং মামলাগুলোকে সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়ন হিসেবে গ্রহণ করায় এই তিন নেতার পক্ষে এক ধরনের ‘সহানুভূতি ভোট’ বা ব্যালট বিপ্লব ঘটেছে। ফাঁসির সেল থেকে সরাসরি আইনসভার সদস্য হওয়া বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে একটি বিরল ও নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।