• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

চীনা সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৫
ছবির ক্যাপশন: ad728

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারকে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন চায় বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী যেন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর দিকে মনোযোগী হয়।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে দিল্লির প্রভাব অনেকটা হ্রাস পায়। এই সুযোগে বেইজিং ঢাকার সাথে তাদের সম্পর্ক ও উপস্থিতি আরও জোরালো করে। সম্প্রতি চীনের সাথে বাংলাদেশের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় একটি ড্রোন ফ্যাক্টরি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, পাকিস্তান ও চীনের যৌথ প্রযোজনার 'জেএফ-১৭ থান্ডার' যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও আলোচনা চালাচ্ছে বাংলাদেশ।

চীনের সাথে এই ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, "চীনের সাথে নির্দিষ্ট কিছু চুক্তির ঝুঁকিগুলো তুলে ধরতে আমরা বাংলাদেশের সরকারের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" তিনি আরও জানান, ট্রাম্প প্রশাসন এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং বেইজিংয়ের বিকল্প হিসেবে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের বিপরীতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন ও বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কাজ করছে, যা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক। বেইজিং স্পষ্ট করে বলেছে, এই সম্পর্ক কোনো তৃতীয় পক্ষকে উদ্দেশ্য করে নয় এবং এতে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না।

সামরিক সম্পর্কের পাশাপাশি 'বাণিজ্য কূটনীতি'কে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, মার্কিন বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী, তবে তারা আগামী সরকারের কাছ থেকে একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আশা করেন। তিনি বলেন, "নতুন সরকার যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে বার্তা দেয় যে তারা বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত।"

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে মার্কিন কোম্পানি 'শেভরন' কাজ করলেও উচ্চ কর হার ও লভ্যাংশ স্থানান্তরের জটিলতার কারণে স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের মতো বড় কোনো মার্কিন চেইন শপ এখনও বাংলাদেশে আসেনি। ট্রাম্প প্রশাসন এই বাণিজ্যিক বাধাগুলো দূর করে নতুন সরকারের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে চায়।