"সারাদেশে ‘শূন্য’ জাপা: ২০০ আসনে প্রার্থী দিয়েও জয়হীন লাঙ্গল"
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫:৪৯
স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। দীর্ঘ তিন দশক ধরে যে রংপুর অঞ্চলকে দলটির ‘দুর্গ’ বলা হতো, সেখানে এবার একটি আসনও পায়নি এরশাদের উত্তরসূরিরা। খোদ দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী নিজ নিজ আসনে তৃতীয় হয়ে রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছেন।
রংপুর-৩ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসনটি দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে জাতীয় পার্টির অভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এবার সেখানে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাহবুবার রহমান বেলাল। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। অন্যদিকে, জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের মাত্র ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। নির্বাচনের দিন জিএম কাদেরকে কেন্দ্রে ভোট দিতেও দেখা যায়নি; তিনি সারা দিন নিজ বাসভবনেই অবস্থান করেন।
দলটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর অবস্থাও ছিল তথৈবচ। গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. মাজেদুর রহমান ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার জিয়াউল ইসলাম ৩৭ হাজার ৯৯৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। অন্যদিকে জাপা মহাসচিব শামীম হায়দার ৩৩ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিটকে পড়েছেন।
এবারের নির্বাচনে জাপা ১৯৬টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো আসনেই জয়ের দেখা পায়নি। বিশেষ করে রংপুর বিভাগের ৬টি আসনের ৫টিতেই জামায়াত এবং একটিতে তাদের মিত্র এনসিপি জয়ী হওয়ায় ওই অঞ্চলে জাতীয় পার্টির একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের শরিক বা ‘দোসর’ তকমা এবং দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণেই ভোটাররা এবার জাতীয় পার্টিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ফল প্রকাশের পর থেকে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। দলের চেয়ারম্যান বা মহাসচিবের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিপর্যয় নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :