• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

জুলাই অভ্যুত্থানের আবু সাঈদ হত্যা: দশম দিনেও সাক্ষী অনুপস্থিত!


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫, ৬:৫৫
ছবির ক্যাপশন: ad728

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :
 রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দশম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) মামলার ধার্য তারিখে প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষী হাজির না হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আগামী ১০ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তবে সাক্ষীকে যথাসময়ে হাজির করতে না পারায় ট্রাইব্যুনাল আবারও প্রসিকিউশনের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

গত ১৩ অক্টোবরও একই কারণে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানো হয়েছিল। ওই সময় প্রসিকিউটর মঈনুল করিম শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সাক্ষী হাজির করতে পারেননি। তখন ট্রাইব্যুনাল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন: “এটা যে আদালত অবমাননা তা কি জানেন? যদি কাজই করতে না পারেন, ব্যস্তই থাকেন, তাহলে দুটি ট্রাইব্যুনাল কেন করা হলো? আপনাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলার প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।”

মঙ্গলবারও একই ঘটনা ঘটায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন। কনস্টেবল সুজনের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সাক্ষী না আসাটা 'রিলাক্টেন্স অব দ্য প্রসিকিউশন' (প্রসিকিউশনের অনীহা) অথবা তাদের ব্যর্থতা।

এ মামলার মোট ৩০ আসামির মধ্যে বেরোবি'র সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন এখনো পলাতক। তাদের পক্ষে গত ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন স্টেট ডিফেন্স (আইনজীবী) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃত ছয় আসামি হলেন:
  • এএসআই আমির হোসেন
  • বেরোবি'র সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম
  • কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়
  • ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছিল গত ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৮ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের জবানবন্দির মধ্য দিয়ে। সর্বশেষ ৬ অক্টোবর নবম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে পুলিশের দুই উপপরিদর্শক— এসআই রফিক ও এসআই রায়হানুল রাজ দুলাল— জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের মধ্যে হাসপাতালে আবু সাঈদকে প্রথম নিয়ে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শী সিয়াম আহসান আয়ান, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডা. রাজিবুল ইসলাম এবং সাংবাদিক এ কে এম মঈনুল হক ইতোমধ্যে তাদের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ করেছেন।

আশা করা হচ্ছে, আগামী ১০ নভেম্বর প্রসিকিউশন সাক্ষীকে হাজির করে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাবে।