• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

‘১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন’: প্রধান উপদেষ্টা


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩০
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস পুনরুল্লেখ করেছেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই দেশে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রতিশ্রুতিতে অটল এবং নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা শেষে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় বৈঠকের বিস্তারিত জানানো হয়।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। উৎসবমুখর পরিবেশে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে প্রশাসন।

নির্বাচন ঘিরে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও ভুয়া খবর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রফেসর ইউনূস। তিনি বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ছড়াচ্ছে। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক সচেতন এবং তারা এসব রুখে দিচ্ছে। সাবেক মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি আলবার্ট গোম্বিসও এই উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ভুয়া খবর বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রু।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সম্মতি পেলে ‘জুলাই সনদ’ বাংলাদেশে স্বৈরশাসন প্রতিরোধের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে এবং গণতান্ত্রিক শাসনের এক নতুন যুগের সূচনা করবে।

সাক্ষাৎকালে মার্কিন কূটনীতিকরা দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে বাংলাদেশে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ (সত্য ও পুনর্মিলন) উদ্যোগের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে নেলসন ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে এমন উদ্যোগের সময় আসেনি।

তিনি বলেন, “ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন তখনই সম্ভব, যখন কেউ অপরাধ স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়। কিন্তু ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী তাদের অপরাধ অস্বীকার করছে। তারা দাবি করছে যে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত তরুণরা সন্ত্রাসীদের হাতে মারা গেছে। তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই, বরং তারা সম্পূর্ণ অস্বীকারের অবস্থানে রয়েছে। এমন বর্বরোচিত অপরাধের পাহাড়সম প্রমাণ থাকার পরও যারা অনুতপ্ত নয়, তাদের সঙ্গে পুনর্মিলন সম্ভব নয়।”

বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণদের উত্থান এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।