পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার অভিযোগ ক্রেমলিনের
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের রাষ্ট্রীয় বাসভবন লক্ষ্য করে ইউক্রেন বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ক্রেমলিন। রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় নভগোরোদ প্রদেশে অবস্থিত এই বাসভবনে হামলার চেষ্টাকে ‘বেপরোয়া কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে মস্কো।
রাশিয়ার অভিযোগ ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ দাবি করেছেন, গত ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর ইউক্রেন ৯১টি দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে হামলার চেষ্টা চালায়। ল্যাভরভ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের পরপরই এই হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
রুশ সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স ল্যাভরভের বরাত দিয়ে জানায়, “ইউক্রেনের ছোড়া সবকটি ড্রোন রাশিয়ার আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।” তবে এই বিশাল সংখ্যক ড্রোন হামলার দাবির সপক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেশ করেনি মস্কো। ল্যাভরভ আরও যোগ করেন, এই উসকানিমূলক হামলার কারণে যুদ্ধ অবসানে ক্রেমলিনের আলোচনার অবস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে, যদিও তারা আলোচনার পথ খোলা রাখতে চান।
জেলেনস্কির প্রত্যাখ্যান ও পাল্টা হুঁশিয়ারি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ক্রেমলিনের এই দাবিকে পুরোপুরি ‘মিথ্যাচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিয়েভ এবং সরকারি ভবনগুলোতে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর অজুহাত তৈরি করতেই রাশিয়া এমন নাটক সাজাচ্ছে।
সাংবাদিকদের জেলেনস্কি বলেন, “এটি রুশ ফেডারেশনের আরেকটি বড় মিথ্যাচার। তারা মূলত কিয়েভ এবং সম্ভবত আমাদের সরকারি কেন্দ্রগুলোতে হামলার ক্ষেত্র তৈরি করছে।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং ইউক্রেনীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পুতিন যেহেতু বলেছেন তিনি উপযুক্ত লক্ষ্য বেছে নেবেন, তাই রাজধানীসহ যেকোনো স্থানে হামলা হতে পারে।”
প্রেক্ষাপট সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্রতর হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার আগে উভয় পক্ষই রণক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে। তবে সরাসরি পুতিনের বাসভবনে হামলার এই অভিযোগ যুদ্ধ পরিস্থিতিকে নতুন করে আরও সংঘাতময় করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :