যশোরে জাতীয় পার্টির জেলা আহবায়ক ও সদস্য সচিবসহ একযোগে ২৬ নেতার পদত্যাগ
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬, ১৫:৪০
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর জেলা জাতীয় পার্টিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দলের ভেতরের শৃঙ্খলাহীনতা ও শীর্ষ নেতৃত্বের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ বিভিন্ন স্তরের ২৬ জন শীর্ষনেতা একযোগে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এই যৌথ পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, দলটির ভেতরে বর্তমানে কোনো সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নেই। এছাড়া শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের অসাংগঠনিক ও স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপের কারণে জাতীয় পার্টি দেশ ও জনগণের জন্য বর্তমান কিংবা ভবিষ্যতে কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারবে না বলে তারা মনে করছেন। মূলত এই কারণেই তারা দল থেকে একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ থেকে জাতীয় পার্টির সঙ্গে তাদের আর কোনো সম্পর্ক রইল না বলেও বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
একযোগে পদত্যাগ করা ২৬ নেতার মধ্যে জেলা ও উপজেলার শীর্ষ সারির প্রায় সব নেতাই রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—
- আজিজুর রহমান আজিজ (আহ্বায়ক, যশোর জেলা জাতীয় পার্টি)
- ডা. মুফতি ফিরোজ শাহ (সদস্য সচিব, জেলা জাপা ও সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় জাতীয় ওলামা পার্টি)
- জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা জাপা)
- এম এ হালিম (সভাপতি, মনিরামপুর উপজেলা জাপা)
- জি এম হাসান (সভাপতি, কেশবপুর উপজেলা জাপা)
- ডা. আক্তারুজ্জামান আক্তার (সভাপতি, শার্শা উপজেলা জাপা)
- মোঃ শফিয়ার রহমান (সভাপতি, যশোর সদর উপজেলা জাপা)
এছাড়া পদত্যাগপত্রে আরও স্বাক্ষর করেছেন মনিরামপুর উপজেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি বিল্লাল হোসেন, মনোহরপুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, মনিরামপুর উপজেলা যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, জেলা কমিটির সদস্য মফিজুর রহমান, একরামুল হক জুয়েল, আবু হারেজ, ওসমান গণি সরকার, মাস্টার ফিরোজ এবং সদর উপজেলার সহ-সভাপতি সেকেন্দার আলীসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একযোগে এত বিপুল সংখ্যক শীর্ষ, উপজেলা ও তৃণমূল নেতার পদত্যাগের ফলে যশোর জেলায় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অস্তিত্ব এখন চরম সংকটের মুখে পড়ল। এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠে জেলায় দলটির কার্যক্রম সচল রাখা আগামীতে কেন্দ্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
আপনার মতামত লিখুন :