ঝিকরগাছায় যুব জামায়াত নেতাকর্মীকে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬, ৬:৩০
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের ঝিকরগাছায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সদস্য জহিরুল ইসলাম ও কর্মী আল-আমিনের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত সোমবার (১২ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদে যান উপজেলা যুব জামায়াতের টিম সদস্য জহিরুল ইসলাম। কাজ শেষে উপজেলা পরিষদ গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় আরমান হোসেন কাকন, নাফিজ অনিক, নওয়াজিস ইসলাম রিয়েল, রাসেল, সাগর, পিন্টু হোসেন পিনুসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেয়।
পরে জোরপূর্বক তাকে অন্য একটি মোটরসাইকেলে তুলে ঝিকরগাছা আবিদ ডায়াবেটিক হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। সেখানে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে রড ও লাঠি দিয়ে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
এসময় সন্ত্রাসীরা তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয় এবং তার কাছে থাকা নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া এটিএম কার্ড ও পিন নম্বর নিয়ে ব্যাংক হিসাব থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং এটিএম বুথ থেকে আরও ১২ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয় বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জহিরুল ইসলামের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে যুব জামায়াত কর্মী আল-আমিনকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকেও মারধর করা হয়। পরে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
আহত জহিরুল ইসলামকে প্রথমে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে অভিযুক্ত কাকন ও রাসেল উপস্থিত হয়ে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে লিপিবদ্ধ করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। বর্তমানে জহিরুল ইসলাম যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, থানায় অভিযোগ দিতে গেলে সেখানেও অভিযুক্তরা উপস্থিত হয়ে পুলিশকে অভিযোগ গ্রহণ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। বক্তারা বলেন, “সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী ও অপহরণকারীরা কোনো নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের কর্মী হতে পারে না।”
তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপির প্রতি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোর-২ আসনের সাংসদ মোসলেহ উদ্দীন ও জেলা জামায়াতের সহকারী আমীর গোলাম কুদ্দুসসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
বক্তারা আরও দাবি করেন, অভিযুক্তরা বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
আপনার মতামত লিখুন :