হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ড্রোন হামলা প্রতিহতের দাবি মার্কিন বাহিনীর
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:২৮
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। তবে প্রণালি বন্ধের এই ঘোষণার পরও ওই রুট অতিক্রম করতে চাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। আজ শনিবার (১৩ জুন) মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে ছোঁড়া সেইসব ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে নিশ্চিত করেছে, গত কয়েক ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি পার হতে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন ছোঁড়ে ইরান। তবে মার্কিন বাহিনী তৎপরতার সঙ্গে সেই ড্রোনের সবকটিই আকাশেই ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন সামরিক বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি এখনো চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ও সচল রয়েছে এবং এটি স্বাভাবিক নিয়মে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধের নির্দেশ দেয় ইরান। ইরানের প্রভাবশালী সামরিক শাখা ‘ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ (আইআরজিসি) জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ (পিজিএসএ) জানায়, "এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসনের কারণে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।" সংস্থাটি আরও জানায়, যাদের পূর্বে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেই আবেদনকারীদের ধৈর্য ধারণ করতে এবং পিজিএসএ-এর পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে।
গত সোমবার হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান ওই হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেছে। এর প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার নির্দেশ দিলে গত মঙ্গলবার রাতে ইরানের ওপর আকস্মিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ সেনারা।
নৌ সেনাদের এই হামলার পর ইরানও পাল্টা জবাব দেয়। তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
এই হামলা-পাল্টা হামলার পর পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও, গত বুধবার মাঝরাতে দুই পক্ষ আবারও তীব্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে গত এপ্রিল মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান এখন ওই যুদ্ধবিরতিকে সম্পূর্ণ ‘অর্থহীন’ বলে বিবেচনা করছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আপনার মতামত লিখুন :