১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট যুদ্ধ: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১৪
নিজস্ব প্রতিবেদক :
আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ভোলা শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘ভোটের গাড়ি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তরুণ ভোটারদের ওপর গুরুত্বারোপ: উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, "গত ১৫ বছরে দেশে সত্যিকার অর্থে কোনো নির্বাচন হয়নি। সর্বশেষ কার্যকর নির্বাচন হয়েছিল ২০০৮ সালে। ফলে ৩০ বছর বা এর আশপাশে যাদের বয়স, তারা কখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। এবার আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, প্রতিটি মানুষ যেন তাদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন।"
সরকারের নিরপেক্ষতা ও মনোনয়ন: নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, "এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো নির্দিষ্ট দলের পক্ষে নয়। আগামী পরশুদিন (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিন। তখন আপনারা জানতে পারবেন কারা এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।"
সংস্কার ইস্যুতে গণভোটের পরিকল্পনা: জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বিশেষ কিছু পরিবর্তনের (সংস্কার) কথা উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, "ছেলে-মেয়েদের জীবনের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তার আলোকে আমরা একটি তালিকা তৈরি করেছি। এই তালিকাটি জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে এবং একটি আলাদা ‘গণভোট’ অনুষ্ঠিত হবে। আপনারা যদি প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ৮০-৯০ শতাংশের সাথে একমত হন, তবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন, নতুবা ‘না’ দেওয়ার সুযোগও থাকবে।"
তিনি আরও জানান, এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ কী চায় বা চায় না, তা পরবর্তী নির্বাচিত সংসদের জন্য একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে, যা জনপ্রতিনিধিরা অগ্রাহ্য করতে পারবেন না।
ভোটের গাড়ি ও জনসচেতনতা: ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার। মূলত জনগণকে ভোটদানে উৎসাহিত করতে ‘ভোটের গাড়ি’ নামক এই প্রচারণার উদ্বোধন করা হয়। এই গাড়িটি আগামী দুই দিন ভোলার বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, "দেশ যে স্বাভাবিক লাইন থেকে সরে গিয়েছিল, তা আবার যথাযথ স্থানে ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য। একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সবাই কেন্দ্রে এসে ভোট দেবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।"
আপনার মতামত লিখুন :