রেমিট্যান্সের টাকা আর আটকে থাকবে না: নতুন নিয়ম জারি
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা বিদেশ থেকে আসা পণ্য ও সেবা খাতের আয় বা ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্সের অর্থ দ্রুততম সময়ে গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দিতে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে রেমিট্যান্স এলে তা সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের হিসাবে ওই দিনই জমা করতে হবে। আর ব্যাংকিং সময়ের পরে এলে পরবর্তী কর্মদিবসের শুরুতেই টাকা জমা নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি, ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হলেও ব্যাংকগুলোকে পুরো প্রক্রিয়া গুছিয়ে নিতে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্সের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহককে তা অবহিত করতে হবে। লেনদেন দ্রুত করতে আধুনিক ও সহজ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি থাকলে, কিছু কাগজপত্র বা যাচাই-বাছাই পরবর্তী সময়ে করার শর্তে আগে গ্রাহকের হিসাবে টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে যেসব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক জমা সম্ভব নয়, সেখানে সর্বোচ্চ তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে দিনের শেষে হিসাব মেলানোর সনাতন পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমাতে বলা হয়েছে। পরিবর্তে ‘রিয়েল টাইম’ বা দ্রুত অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রেমিট্যান্সের হিসাব মেলানোর কাজ মাত্র ৬০ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে রেমিট্যান্স গ্রহণ থেকে শুরু করে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ট্র্যাক করার জন্য একটি ‘বিশেষ ট্র্যাকিং নম্বর’ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহক জানতে পারবেন তার টাকা বর্তমানে কোন অবস্থায় আছে। পাশাপাশি ডিজিটাল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও ব্যাংকাররা। তারা মনে করছেন, এই ব্যবস্থার ফলে প্রবাসীদের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার এবং সেবা রপ্তানিকারকরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। এতে করে অবৈধ পথে বা হুন্ডিতে টাকা পাঠানোর প্রবণতা কমবে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও গ্রাহকের আস্থা দুই-ই বাড়বে।
আপনার মতামত লিখুন :