মার্কিন অভিযান বন্ধ থাকলে পাল্টা হামলা চালাবে না ইরান: রয়টার্স
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে, ততদিন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে ইরান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
টানা ১৩ দিন ধরে প্রতি রাতে পরস্পরকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে আসছিল ইরান ও মার্কিন বাহিনী। তবে শনিবার ও রোববার রাতে দুই পক্ষের পক্ষ থেকেই কোনো নতুন হামলা চালানোর খবর পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই ইরানি কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধের শুরু থেকেই তেহরান ‘হামলার বদলে হামলা’ নীতি অনুসরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক অভিযান স্থগিত রাখে, তবে ইরানও তাদের পাল্টা অভিযান মুলতবি রাখবে। ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনকে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা টানাপোড়েনের ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। তবে যুদ্ধের বর্তমান পর্যায়ে পরমাণু ইস্যুকে ছাপিয়ে মুখ্য হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’।
যুদ্ধ শুরুর পরপরই হরমুজ প্রণালিতে অবরুদ্ধ অবস্থা জারি করে তেহরান, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পণ্যের বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানি পণ্যের এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
ইরানের দাবি, যেহেতু হরমুজ প্রণালি তাদের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে গেছে, তাই এই প্রণালি ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এখন থেকে তেহরানকে টোল দিতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলো চরমভাবে এই শর্তের বিরোধিতা করে আসছে।
এই বিরোধের জেরে দুই সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী দুটি ট্যাংকার জাহাজে ড্রোন হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ওই ঘটনার সূত্র ধরেই টানা ১৩ দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক সংঘাত চলে।
এদিকে সাম্প্রতিক দুই দিনের হামলা বিরতি প্রসঙ্গে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্য মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজকে জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে এই সামরিক বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এখন দেখার বিষয়, এই দুই দিনের বিরতি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতিতে রূপ নেয় নাকি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সংঘাতের সূচনা করে।
আপনার মতামত লিখুন :