শর্ত সাপেক্ষে ইমরান খানের মুক্তির আলোচনা শুরু
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৯
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। তবে বিষয়টির স্পর্শকাতর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে আপাতত তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অবজারভার’-এর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র এবং ইমরান খানের পরিবার।
আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানায়, "পাকিস্তানকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে এই চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার স্থায়ী অবসান ঘটানো জরুরি। কারণ দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেশটির অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করেছে।"
৭৩ বছর বয়সী ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান গত তিন বছর ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তারের পর থেকে তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। আইনি প্রক্রিয়ায় কারাগার থেকে মুক্তির জন্য সাধারণত সুনির্দিষ্ট কারণ দেখাতে হয়। সে ক্ষেত্রে চলতি বছরের শুরুতে চোখের অস্ত্রোপচারসহ ইমরানের শারীরিক পরিস্থিতির বিষয়টিকে আইনি ও প্রশাসনিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
এদিকে গত কয়েক মাস ধরে ইমরান খানের সঙ্গে স্বজন, আইনজীবী বা দলীয় নেতাদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সম্প্রতি তাঁর মৃত্যু ঘিরে নানামুখী গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
‘দ্য অবজারভার’-কে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলায়মান খান ও কাসিম খান বলেন, "আমাদের বাবা সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে বাইরের বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘ কারাবাসের কারণে তাঁর স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটেছে বলে আমাদের শঙ্কা। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের মৌলিক অধিকার থেকেও আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।"
ইমরান খানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা সাইয়েদ জুলফি বুখারি বলেন, "ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে এবং তাঁর জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা প্রয়োজন। সরকার সামান্য দায়িত্বশীল হলেও অবিলম্বে স্বাস্থ্যগত কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়া উচিত।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৯ সালে একই ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ইমরান খানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নওয়াজ শরিফ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ইমরান খানের ক্ষেত্রেও যদি কোনো সমঝোতা হয়, তবে তাতে দেশত্যাগ করা, রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং সামরিক বিরোধী বক্তব্য না দেওয়ার মতো কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হতে পারে।
তবে ইমরান খান শেষ পর্যন্ত এমন আপস মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠদের মাঝেই যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ইমরান খানের বন্ধু ও মানবাধিকার আইনজীবী ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথ বলেন, "ইমরান অত্যন্ত একগুঁয়ে প্রকৃতির মানুষ। ক্রিকেট মাঠে হেলমেট ছাড়া ফাস্ট বোলারদের মুখোমুখি হওয়া এই ব্যক্তিত্ব রাজনৈতিক মুক্তির এমন আপসমূলক শর্ত মানবেন বলে মনে হয় না। তবে বন্ধু হিসেবে আমি চাই তিনি এটি মেনে নিন, কারণ কারাগারে একা একা তাঁর পরিণতি খারাপ হোক—তা আমরা চাই না।"
আপনার মতামত লিখুন :