• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে : অমিত


FavIcon
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৬ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:০৫
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক:
গ্যাস ও বিদ্যুতের চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংকটের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছানোয় দুঃখপ্রকাশ করে তিনি বলেন, সামিট টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাস করতে না পারা এবং এক্সিলারেট টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে না পারায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কবে নাগাদ স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানতে চাইলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘এ সংকট মোকাবিলা করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমাদের জন্য দিনক্ষণ বলাটা কঠিন।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এক্সিলারেট টার্মিনাল বর্তমানে বয়লারজনিত সমস্যার কারণে ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। একই সময়ে সামিট টার্মিনালে বঙ্গোপসাগরের বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি কার্গো খালাস করা যাচ্ছে না।

মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই, ভোগান্তি চরমে। এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। আমরা বারবার সে কারণে বাংলাদেশের জনগণের কাছে দুঃখপ্রকাশ করছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে তো আমরা অসহায়। আত্মসমর্পণ করতে হয় প্রকৃতির কাছে। প্রকৃতি স্বাভাবিক হলে আমরা এই গ্যাসটা ডিসচার্জ করতে পারবো এবং সেক্ষেত্রে গ্যাস সাপ্লাইও স্বাভাবিক হবে ইনশাআল্লাহ।’

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যা থেকে আমরা একটি কৌশল নিয়েছি। আশা করছি আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে ইনশাআল্লাহ।’

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার কাছে সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মালয়েশিয়ায় চিঠি পাঠানোর পর দেশটির সঙ্গে তিনি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। পরে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়া গেছে। তাদের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে এবং অন্তত একটি কার্গো এলএনজি পাওয়ার আশা করছে সরকার।

আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি প্রক্রিয়ার বিষয় এবং বাজারে প্রয়োজনীয় আইএসও ট্যাংকের প্রাপ্যতাও এখানে একটি বিষয়। এ কারণে এটিকে মধ্যমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় সরকারের হাতে যতগুলো বিকল্প ছিল। আমরা সব বিকল্প নিয়ে কাজ করছি। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও কোনো পরামর্শ থাকলে তা গ্রহণ করা হবে।

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট কতদিন স্থায়ী হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাতে না পারার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মেসেজ দেওয়ার মতো জায়গায় যদি থাকতাম অবশ্যই দিতাম। আমি শুধু এইটুকুই বলব জনদুর্ভোগকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা প্রাণান্তকর চেষ্টা করছি। আমার ধারণা, জনগণ বোঝেন, আপনারাও বোঝেন। আমাদের চেষ্টার ন্যূনতম কোনো ত্রুটি নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘টাইম টু টাইম আমার কাছে তথ্য আসা মাত্রই আমি সেগুলো দেওয়ার চেষ্টা করবো।’

দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। বর্তমান সংকটের পেছনে অতীতের নীতিগত সিদ্ধান্তেরও প্রভাব রয়েছে। আগের সরকারগুলো মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিবর্তে তাৎক্ষণিক সমাধানের পথে এগিয়েছে। এর ফলে কোনো এক সময় এ ধরনের সংকটের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘একক মূল নীতি গ্রহণ করলে একটি সময়ে কিন্তু তার মাশুল দিতে হয়। বিগত সরকারগুলো মধ্যমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান সূত্র খোঁজেননি। তাৎক্ষণিক সমাধানের পথে গেছেন। ভুলে গেছেন যে হঠাৎ করে একটি তারা সংকট এনেছেন। সে সংকটের সময়টা হয়তোবা আজকে এসেছে। আজকে না হলে তো আগামীকাল আসত, আগামীকাল না হলে তো পরশুদিন আসত। এক সময় এ পরিস্থিতির মুখোমুখি আপনাকে আমাকে হতেই হতো।’

জনরোষের আশঙ্কায় পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেইনি। জনরোষের কারণে চিঠি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) দিয়েছে। আমি শুধু এই মন্ত্রণালয়কে রিপ্রেজেন্ট করছি।’