যশোরে কেমিক্যাল ও ভূষি দিয়ে সয়াবিন বড়ি তৈরি: 'ইমরান ফুডস'কে ১ লাখ টাকা জরিমানা
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৫
স্টাফ রিপোর্টার :
যশোরের বকচর হুসতলা এলাকায় ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপাদানের মিশ্রণে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সয়াবিন বড়ি প্রস্তুত করার অপরাধে 'ইমরান ফুডস প্রোডাক্টস' নামক একটি খাদ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ বুধবার জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, যশোর জেলা কার্যালয় এই অভিযান পরিচালনা করে।
সরেজমিনে অভিযান পরিচালনাকালে দেখা যায়, কায়ছার আলীর মালিকানাধীন 'ইমরান ফুডস প্রোডাক্টস'-এ অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছিল। কারখানাটিতে প্রস্তুতকৃত সয়াবিন বড়িতে স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল 'সাল্টু' ব্যবহার করা হচ্ছিল। এ ছাড়া পণ্যের ওজন বাড়িয়ে অসাধু উপায়ে অধিক মুনাফা লাভের আশায় সয়াবিন বড়ির সাথে সয়াবিনের ভুষি ও ভুট্টার গুঁড়া মেশানো হতো, যা নিয়মিত গ্রহণে মানবদেহে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
অভিযানে আরও দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নামে ও বেনামে মোড়ক প্রস্তুত করে এসব নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বাজারে বাজারজাত করে আসছিল। সাধারণ ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করতে ও আইন চোখ ফাঁকি দিতে প্যাকেটের গায়ে কোনো স্থায়ী বা সঠিক কারখানা ও অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়নি। এসব অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর দুটি পৃথক ধারায় কারখানাটিকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান বলেন, "জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আমাদের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অসাধু উপায়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ও অপ্রাসঙ্গিক উপাদান মিশিয়ে যারা খাদ্যপণ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অবশ্যই যথাযথ মান, সঠিক ঠিকানা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রেখে পণ্য উৎপাদন করতে হবে; অন্যথায় ভেজাল কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জেলা প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি চৌকস দল সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থেকে প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করেন। সাধারণ মানুষের অধিকার ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে জেলাজুড়ে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে বলে ভোক্তা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :