• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

নির্মাণকাজ শেষ না হতে ধ্বসে গেল সড়ক


FavIcon
Swapnobhumi
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬:০৯
ছবির ক্যাপশন: ad728

মনিরামপুর যশোর :
মনিরামপুরে নির্মাণ কাজ শেষ না হতে ঝাঁপা বাঁওড়ের নব নির্মিত সেতুর সংযোগ রাস্তা ধ্বসে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে বাঁওড়ের সেতুর উত্তর পাড়ে কোমলপুর অংশের প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা ধ্বসে দেবে গেছে। ফলে অচল হয়ে পড়েছে ঝাঁপা ও কোমলপুর দুই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা। 
স্থানীয়রা বলছেন, ঝাঁপা বাঁওড়ের কোমলপুর বাজার ও ঝাঁপা বাজারের সংযোগ সড়কের ঝাঁপা বাঁওড়ের উপরের জরাজীর্ণ সেতু ভেঙ্গে সেখানে উঁচু করে সেতু নির্মান করায় আগের রাস্তা নিচু হয়ে যায়। যে রাস্তা বয়ে সেতুর উপর উঠা যাচ্ছিল না। ফলে সেতুর দুপাশে মাটি ফেলে উঁচু করে রাস্তায় ইটের সলিং বসানো হয়েছে। মাটি সঠিকভাবে বসতে না দিয়ে তড়িঘড়ি রাস্তা সলিং বুনে চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ফলে ছোটখাটো যানবাহনসহ সাধারণ ভ্যান ইজিবাইকে করে পথচারীরা রাস্তায় চলাচল করছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঠিক তদারকি না থাকায় ও ঠিকাদার দায়সারাভাবে রাস্তার কাজ শেষ করায় কোন প্রকার ভারি বৃষ্টিবাদল ছাড়াই রাস্তা ধ্বসে গেছে। 
মনিরামপুরের ঝাঁপা-কোমলপুর বাজার সংযোগ সড়কে ঝাঁপা বাঁওড়ের উপর জরাজীর্ণ একটি সেতু ভেঙ্গে নতুন সেতু নির্মিত হয়েছে গত বছরের মে মাসে। এক কোটি ৯২ লাখ আট হাজার ২১১ টাকা ব্যয়ে ১৩ দশমিক ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের তত্ত্বাবধানে। যারমধ্যে সেতুর দুই পাড়ে ৫২৩ মিটার রাস্তায় হেরিং বন বল্ড (এইচবিবি) ইটের সলিং বসাতে ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। ঝিনাইদহ জেলার কাঞ্চননগর এলাকার নিশীত বসু নামে এক ঠিকাদার সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ কেরেছেন। সেতুর নির্মাণ কাজ শেষে ভারি বৃষ্টিতে বাঁওড়ে পানি বেড়ে যাওয়ায় সাত মাস সংযোগ রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ ছিল। এরপর বৃষ্টির পানি টেনে গেলে গত নভেম্বরের শেষ দিকে মাটি ফেলে সেতুর দুই পাশে সংযোগ রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। যার কাজ শেষ হয়েছে মাস খানেক আগে। 
স্থানীয় কোমলপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খালেদুর রহমান টিটু বলেন, বাঁওড়ের ভিতরে আগের রাস্তা মাটি ফেলে সেতু বরাবর উঁচু করে ইটের সলিং বসানো হয়েছে। মাটি বসার সুযোগ না দিয়ে সলিং বসিয়ে রাস্তা চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। একারণে রাস্তা ধ্বসে গেছে। মাটির পরিবর্তে বালু ফেলে রাস্তা করলে এমনটি হয়তো হতো না।
সেতুর কাজের ঠিকাদার নিশীত বসু বলেন, কাজে কোন অনিয়ম করা হয়নি। লোকসান দিয়ে সেতু ও রাস্তার কাজ করা হয়েছে। রাস্তা ধ্বসে যাওয়ার কথা শুনে আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। ধ্বসে যাওয়ার কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।
ঝাঁপা বাঁওড়ের উপর নির্মিত সেতু ও সংযোগ রাস্তার কাজ দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ঝাঁপা বাঁওড়ের সেতুর সংযোগ রাস্তা ধ্বসে যাওয়ার খবর পেয়েছি। উপস্থিত রাস্তা ধ্বসে যাওয়ার কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। শনিবার রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু হবে। 
এ বিষয়ে জানতে মনিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদকে একাধিকবার মোবাইলে কল করে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে তার বক্তব্য জানা যায়নি।