নিজেস্ব প্রতিনিধি:
হাসপাতালে ভর্তি থাকাবস্থায় তিনি এক সংবাদকর্মীকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সংবাদকর্মীর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘রিপন ভাইরে বললাম, রিপনরে। বলে, ‘আমাকে বলে কোনো লাভ নাই।’’
সংবাদকর্মী তখন বলেন, ‘আমরা তো প্রতিদিন দৌড়াতে পারবো না। আমাদের কাজ থাকে। ’এই পর্যায়ে নারী বলেন, ‘দিক দশ লাখ টাকা, দিক।’
সংবাদকর্মী বলেন, ‘দেবে কি না আমি বলে দেখবো। ওই রকম কথা বলা যাবে না, যেটা অসাধ্যের বিষয়।’
নারী তখন জানতে চান, ‘তাহলে কত দেবে?’
এই কথোপকথন হয় গতবছর ২৩ আগস্ট। যেদিন তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তাকে ‘জোর করে বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে’ বলে দাবি করে। এই বিষয়ে তিনি থানায় মামলাও করেছিলেন। মামলায় যাদের আসামি করা হয়, তার মধ্যে আইয়াজ উদ্দিন রিপনের নাম রয়েছেন, যিনি যশোর শহরের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
কথিত বিষ খাওয়ানোর বিষয়ে অভয়নগরের এই নারী এজাহারে যে বর্ণনা দিয়েছিলেন, সেখানে রিপনের নাম আছে ঠিকই, কিন্তু বিষ খাওয়ানোর ব্যাপারে তার কোনো ভূমিকার কথা নেই। সঙ্গত কারণেই মামলাটির ফাইনাল রিপোর্ট দেয় পুলিশ।
সেই নারী আজ শনিবার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে কথিত সেই ঘটনার সময় ব্যবসায়ী রিপন তার মুখে জোর করে বিষ ঢেলে দেন বলে অভিযোগ আনেন। উপস্থিত সাংবাদিকরা ‘ব্লাক মেইলের মাধ্যমে রিপনের কাছ থেকে মোটা টাকা আদায়ের ভিডিও বক্তব্য’ নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে ওই নারী ‘এমন কোনো ঘটনা হয়নি’ বলে দাবি করেন। যদিও সংবাদকর্মীদের কাছে সেই ভিডিও বক্তব্য সংরক্ষিত আছে।
‘ধর্ষণের শিকার’ ও তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে দাবি করে ওই নারী আজ শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যশোরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তবে এই সব অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আইয়াজ উদ্দিন রিপন দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’
তিনি বলেন, ‘ওই নারী কথিত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে আমার কাছে দশ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দাবি করার সেই ভিডিও বক্তব্য আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। ওই নারী আমার পরিবারের সদস্যদের নামেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা, অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ তথ্য দিয়ে দিনের পর দিন পোস্ট করেছে। আমি ন্যায় বিচার পেতে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।’
আপনার মতামত লিখুন :