১০ মার্চ 'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০২
স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে 'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই যুগান্তকারী প্রকল্পের পাইলটিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত প্রত্যেক সুবিধাভোগী প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার উপ-কমিটির সভায় এই প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে দেশের বিভিন্ন বিভাগের ১৪টি উপজেলাকে এই প্রকল্পের পাইলটিংয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলার একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে সর্বজনীনভাবে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে সম্প্রসারণ করা হবে। মূলত সমাজের তিনটি স্তর—হতদরিদ্র, দরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরাই এই কার্ডের প্রাথমিক সুবিধাভোগী হবেন।
তালিকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, "ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা প্রণয়নে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বৈষম্য করা হবে না। এটি একটি সর্বজনীন (ইউনিভার্সাল) কার্ড হবে।" তিনি আরও জানান, কোনো ঘরে বসে তালিকা করা হবে না; বরং 'ডোর টু ডোর' বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবীদের চিহ্নিত করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে উপজেলা পর্যায়ে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে। প্রতিটি উপজেলার তদারকির দায়িত্বে থাকবেন একজন প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা। তথ্যগত ভুল এড়াতে দুই স্তরের 'চেকিং ও রি-চেকিং' ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী চার মাসের মধ্যে পাইলটিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করে তা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা ও রূপরেখা নিয়ে কাজ করেছেন। একজন নারী স্বাবলম্বী হলে পুরো পরিবার তথা আগামী প্রজন্ম স্বাবলম্বী হবে—এই বিশ্বাস থেকেই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :