দিল্লির ষড়যন্ত্রে ১৩ নভেম্বরে নাশকতার পরিকল্পনা করছে আ. লীগ: গোলাম পরওয়ার
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৬ নভেম্বর ২০২৫, ১৪:২৩
স্বপ্নভূমি ডেস্ক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, আগামী ১৩ নভেম্বর 'লকডাউনের' নামে আওয়ামী লীগ নতুন করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছে, যার পেছনে 'দিল্লির ষড়যন্ত্র' রয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে পাঁচ দফা দাবিতে সমমনা আটটি রাজনৈতিক দলের আয়োজিত সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ঐতিহাসিক পল্টন মোড়ে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশকে তিনি 'আগামী দিনের রাজনীতির জন্য একটি মাইলফলক' হিসেবে অভিহিত করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জাতি আজ অপেক্ষারত। সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রায় নয় মাস ধরে চেষ্টা করে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় নানা সংস্কারে প্রায় একমত হয়েছিল। কিন্তু ২৬ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন মহল থেকে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর পল্টন মোড়ের এ বিশাল মহাসমাবেশ দেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেবে।
জামায়াত নেতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, "যারা দাবি করছেন একদিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন হবে, কীভাবে হবে?" তিনি সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরে বলেন, গত জুলাই জাতীয় সনদে ৪৮টি বিষয়ে সংবিধানের অনেক সংস্কার হয়েছে—যেমন দলের প্রধান ও সরকারের প্রধান এক থাকবে না, সাংবিধানিক পদগুলোতে পৃথক নিয়োগ কর্তৃপক্ষ হবে, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট ইত্যাদি।
গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তোলেন, "গণভোট যদি আইনি ভিত্তি না হয়, তাহলে কীসের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন হবে?"
তিনি আরও বলেন, এই সরকারকে হাইকোর্টের আর্টিকেল ১০৬-এর মধ্য দিয়ে রেফারেন্স সহকারে সরকারের বৈধতার কথা অনেকে বলেছেন, কিন্তু এ নিয়েও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর মতে, একমাত্র গণভোটের মধ্য দিয়েই জাতির আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য গৃহীত সংস্কারগুলোর আইনি ভিত্তি দেওয়া সম্ভব। তা না হলে জাতীয় নির্বাচনের বৈধতা ও এই সংস্কার কখনো পূরণ হবে না।
মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "আমরা পাঁচ দফায় মানবতাবিরোধী অপরাধী খুনিদের বিচারের দাবি করেছিলাম, আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি, ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে।"
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, "যখন এই নভেম্বরে কিছু অপরাধীর রায়ের সম্ভাবনা, তখন ফ্যাসিস্টরা বাংলাদেশজুড়ে ককটেল, গাড়িতে আগুন দিয়ে নাশকতার ষড়যন্ত্র করছে।"
সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা শুনছি, ঢাকার হোটেলে হোটেলে সন্ত্রাসীরা অবস্থান নিয়েছে। আপনারা অভিযান চালিয়ে ফ্যাসিস্টদের গ্রেপ্তার করুন এবং অবিলম্বে জুলাই সনদের আইনের ভিত্তি তৈরি করুন। তারপর ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করুন। জাতি সরকারকে সহযোগিতা করবে।"
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিম (পীরসাহেব চরমোনাই) সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আপনার মতামত লিখুন :