• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

ইন্টারনেট শাটডাউন করা চিরতরে নিষিদ্ধ করল সরকার


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
বাংলাদেশে এখন থেকে আর কখনোই ইন্টারনেট বা টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধ করা যাবে না। ইন্টারনেট শাটডাউনকে আইনত নিষিদ্ধ করে ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। একই সঙ্গে বহুল বিতর্কিত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রীয় নজরদারিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সংশোধনীর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংস্কারের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ খাতকে আরও গণতান্ত্রিক, বিনিয়োগবান্ধব এবং নাগরিক অধিকার সংরক্ষণমূলক করে তোলা হয়েছে।

বন্ধ করা যাবে না ইন্টারনেট: সংশোধিত আইনের ৯৭ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কোনো সিদ্ধান্তেই দেশব্যাপী বা আংশিকভাবে ইন্টারনেট বা টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধ করা যাবে না। এর ফলে ভবিষ্যতে আন্দোলন বা বিশেষ পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট শাটডাউনের কোনো আইনি সুযোগ থাকছে না।

বিলুপ্ত হচ্ছে এনটিএমসি, আসছে নতুন তদারকি কাঠামো: সরকার এনটিএমসি বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে ‘সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট (সিআইএস)’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় এখন থেকে যেকোনো ‘বৈধ ইন্টারসেপশন’ বা নজরদারির ক্ষেত্রে একটি আধা-বিচারিক কাউন্সিলের অনুমোদন নিতে হবে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত এই কাউন্সিল নজরদারির অপব্যবহার রোধে কাজ করবে। এছাড়া সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রতি বছর এ বিষয়ে জাতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

বিটিআরসির স্বাধীনতা ও গণশুনানি: ২০১০ সালের বিতর্কিত সংশোধনী বাতিল করে বিটিআরসির স্বাধীনতা ও ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখন থেকে লাইসেন্স অনুমোদনের মূল ক্ষমতা থাকবে বিটিআরসির হাতে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রতি চার মাস অন্তর গণশুনানি আয়োজন এবং তার সিদ্ধান্ত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ স্থায়ী কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে একটি ‘জবাবদিহিতা কমিটি’ বিটিআরসির কার্যক্রম তদারকি করবে।

গোপনীয়তা সুরক্ষা ও হয়রানি বন্ধ: নতুন আইনে বলা হয়েছে, সিম বা ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করে কোনো নাগরিকের ওপর নজরদারি বা হয়রানি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিতর্কিত ‘স্পিচ অফেন্স’ সংক্রান্ত ধারাগুলো পরিবর্তন করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর সাথে সামঞ্জস্য আনা হয়েছে। এখন থেকে কেবল ‘সহিংসতার আহ্বান’ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ: লাইসেন্স প্রদানের সময়সীমা কমানোর পাশাপাশি আগের আইনের উচ্চ ও পুনরাবৃত্তিমূলক জরিমানার পরিমাণ কমানো হয়েছে। এর ফলে টেলিযোগাযোগ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আরও উৎসাহিত হবে বলে মনে করছে সরকার। এছাড়া গ্রাহক ও অপারেটরদের আইনি প্রতিকারের জন্য নতুন করে ‘আপিল ও সালিশ’ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।

সরকার বলছে, এই সংশোধনীগুলো জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) মানদণ্ড অনুযায়ী করা হয়েছে, যা বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও ডিজিটাল অধিকার সচেতন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করবে।