আইআরজিসি-কে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ ঘোষণা করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:২০
স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
ইরানের বিতর্কিত ও অভিজাত সামরিক শাখা ‘ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটটি গতকাল বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
ইইউ’র পররাষ্ট্র বিভাগের নবনিযুক্ত প্রধান কাজা কালাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ ও ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালানোর প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের ওপর এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কাজা কালাস হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “কোনো প্রকার দমন-পীড়নকে ছাড় দেওয়া ইইউ’র নীতিবিরুদ্ধ। যে সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নিজের হাজার হাজার নাগরিককে হত্যা করে, তারা আসলে নিজেদের অজান্তেই নিজের কবর খুঁড়ছে।”
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে ফ্রান্স এবং ইতালি এই প্রস্তাবের পক্ষে জোরালো সমর্থন জানায়। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল উপস্থিত থেকে সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে বলেন, “ইরানে যে রক্তপাত আমরা দেখেছি, তা কোনোভাবেই সহ্যের সীমার মধ্যে পড়ে না। এই নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদ জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ছিল।”
ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া ইরানের চিরশত্রু হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল ইইউ-র এই পদক্ষেপকে উচ্ছ্বসিতভাবে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’র এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইসরায়েলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ভবিষ্যতে আইআরজিসি সদস্যদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো অনেক সহজ হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অভ্যন্তরে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগে আইআরজিসি-কে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছিল পশ্চিমা দেশগুলো। এবার ইইউ-র এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ফলে ইউরোপের দেশগুলোতে আইআরজিসি’র কার্যক্রম ও সম্পদ জব্দের পথ প্রশস্ত হলো।
আপনার মতামত লিখুন :