যশোর সদর হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে দালাল আটক
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক :
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল (সদর) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে হাসপাতালের দায়িত্বরত পুলিশ। রোববার (১৪ জুন ) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত যুবকের নাম সুমন (২৫)। তিনি যশোর সদর উপজেলার বিরামপুর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার পিতা বাবু দেবনাথ (৬০)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সুমন দীর্ঘদিন ধরে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে উদ্বুদ্ধ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রোগীদের নানা ধরনের তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে হাসপাতাল থেকে বাইরে নিয়ে যেতেন এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করিয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতেন।
রোববারও তিনি একই কায়দায় কয়েকজন রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে হাসপাতাল প্রশাসন দ্রুত হাসপাতালের কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা এবং বাইরে নিয়ে গিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায় করা একটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ রোগীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি হাসপাতালের সেবাব্যবস্থাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে হাসপাতাল প্রশাসন রোগী ও তাদের স্বজনদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো ব্যক্তি সরকারি হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে বা প্রলোভন দেখালে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা দায়িত্বরত পুলিশকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে সক্রিয় দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হলে রোগীদের হয়রানি ও প্রতারণা অনেকাংশে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
আপনার মতামত লিখুন :