• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

মার্কিন-ইরান দ্বিতীয় দফা সংলাপের প্রস্তুতিতে পাকিস্তান


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৮
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসন এবং একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফা সংলাপের আয়োজন করতে যাচ্ছে পাকিস্তান। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এবং ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পাকিস্তানের দুটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র সংবাদমাধ্যমগুলোকে সংলাপের প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সংলাপের প্রস্তুতির বিষয়ে পাকিস্তানের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র আনাদোলু এজেন্সিকে জানিয়েছে, "আমরা গত মঙ্গলবার থেকেই এই মেগা ইভেন্টের প্রস্তুতি শুরু করেছি। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় আমাদের মূল লক্ষ্য এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করা।"

কূটনৈতিক মহলের ধারণা, গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরান সফর ছিল এই সংলাপের প্রস্তুতিরই একটি অংশ। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে তার এই আলোচনা ইসলামাবাদে আসন্ন সংলাপের পথ সুগম করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৪০ দিন যুদ্ধ চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। এরপর ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে দুই দেশ। সংঘাতের শুরু থেকেই পাকিস্তান প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে।

এর আগে যুদ্ধবিরতির তৃতীয় দিনে ইসলামাবাদে প্রথম দফার সংলাপে বসেছিল মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা। টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। প্রথম দফার সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে এখন দ্বিতীয় দফার আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়।


ইসলামাবাদে প্রথম সংলাপ সফল না হলেও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয় পক্ষই আলোচনার টেবিল ছাড়েনি। দুই দেশই জানিয়েছে, তারা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান চায় এবং দ্বিতীয় দফা আলোচনার ভেন্যু হিসেবে ইসলামাবাদের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

বিশ্বের দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের এই সংলাপ যদি সফল হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। আর এই সফলতার কারিগর হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও পিটিআই।