যশোরে ভারপ্রাপ্ত বিচারকের ওপর আইনজীবীদের অনাস্থা: উত্তপ্ত আদালত, বিচারকাজ মুলতবি
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬, ১০:২৬
স্টাফ রিপোর্টার :
যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন জেলা আইনজীবীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার (১ মার্চ) দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে চরম উত্তেজনা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে আদালতের কার্যক্রম চলাকালে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে এজলাসেই বিচারকের সঙ্গে আইনজীবীদের কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত বিচারক বিচার বিভাগীয় সুলভ আচরণ করছেন না। পরে আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেন এবং আদালত মুলতবি রাখার আবেদন জানান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করে এজলাস ত্যাগ করেন।
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম. এ. গফুর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "ভারপ্রাপ্ত বিচারক আইরিন পারভীন বিচার বিভাগীয় মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন না—এমন একটি দীর্ঘদিনের অভিযোগ আইনজীবীদের মধ্যে ছিল। আজ সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আমরা তার প্রতি অনাস্থা জানিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বিচারকের সাথে আলোচনায় বসব এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করব।"
অন্যদিকে, যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বিষয়টিকে একটি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে দেখছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "এটি মূলত দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি। আমরা আলোচনার মাধ্যমে আজই বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করছি।"
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যশোরে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী জেলা ও দায়রা জজ না থাকায় বিচারিক কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে। গত বছরের ২৮ আগস্ট তৎকালীন বিচারক শেখ নাজমুল আলমের বদলির পর থেকে এই সংকটের শুরু। মাঝে মোহাম্মদ আলী তিন মাসের জন্য দায়িত্ব নিলেও গত ৫ জানুয়ারি তার বদলির পর পদটি আবারও শূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।
সিনিয়র আইনজীবীদের মতে, ভারপ্রাপ্ত বিচারকের হাতে পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা না থাকায় বিচারপ্রার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। সম্প্রতি পদোন্নতি পাওয়া আইরিন পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও আইনজীবীদের সাথে তার দূরত্ব বিচারিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এ ঘটনার পর সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত একজন স্থায়ী জেলা ও দায়রা জজ নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
আপনার মতামত লিখুন :