• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

'নির্বাচনের দিনই হবে গণভোট, দুই ব্যালটে ভোট দেবে জনগণ'


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:৩৩
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :

ঐকমত্যের নথি থেকে 'নোট অব ডিসেন্ট' গোপন করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং সংকটের জন্য সম্পূর্ণভাবে অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে কোনো গণভোটের সুযোগ নেই; বরং নির্বাচনের দিনই জনগণ দুটি ব্যালটে ভোট দেবে— একটি প্রার্থী নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি গণভোটের জন্য।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং ঐকমত্যের চূড়ান্ত নথিতে বিএনপির মতভেদ বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (Note of Dissent) গোপন করে আস্থার সেতু ভেঙে দিয়েছে।

তিনি বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকার যে কমিশন গঠন করেছে, সেই কমিশন প্রায় এক বছর আট-নয় মাস ধরে ঐকমত্যের নানা বিষয়ে আলোচনা করেছে। সংস্কার ও বিভিন্ন বিষয়ে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই একমত হয়েছিলাম। কিছু বিষয়ে মতভেদ থাকায় আমরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিলাম। অর্থাৎ মতভেদ থাকলেও মূল বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলাম, এটাই ছিল নিয়ম।"

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, যখন তারা নির্বাচনে যাবেন, তখন ঐকমত্যের বিষয়গুলো তাদের ম্যানিফেস্টোতে থাকবে। "জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়, তাহলে আমরা পার্লামেন্টে তা পাস করে দেশের পরিবর্তন ঘটাবো। আর যদি ভোট না দেয়, তাহলে সেটি বাদ পড়বে।"

নথিতে জালিয়াতির অভিযোগ এনে তিনি বলেন, "যেদিন ঐকমত্যের নথি জমা দেওয়া হলো, মনে আছে- সেদিন ১৭ তারিখ, বৃষ্টি হচ্ছিল। আমরা আবার সব রাজনৈতিক দল একমত হয়ে বৃষ্টির মধ্যে ছাতা ধরে সেখানে স্বাক্ষর করেছিলাম। কিন্তু যখন প্রধান উপদেষ্টার কাছে সেটা উপস্থাপন করা হলো, তখন দেখা গেলো অনেক পার্থক্য। বিশেষ করে আমাদের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’গুলো সেখানে ছিল না। তাই আমরা বলেছি, এটা ‘ব্রিচ অব ট্রাস্ট’। তারা জনগণের আস্থা ভেঙে দিয়েছে।"

ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং বিশ্বাসযোগ্যতা রাখেনি। তাই বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের দায় পুরোপুরি অন্তর্বর্তী সরকারের।

বিএনপিকে 'সংস্কারের দল' হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির জন্মই হয়েছে সংস্কারের মধ্য দিয়ে। ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সব বন্ধ পত্রিকা খুলে দিয়েছিলেন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার দুটোই শুরু করেছিলেন শহীদ জিয়া। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রেসিডেনসিয়াল ব্যবস্থা থেকে পার্লামেন্টারি পদ্ধতিতে ফিরে আসেন এবং কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেন, যার অধীনে চারটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেএসডি’র ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই সভায় আরও বক্তব্য দেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।