• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

শীর্ষ দুই রাজনৈতিক নেতাসহ তিনজনকে গানম্যান দিচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৬:৫২
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে আবেদনের প্রেক্ষিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং মেহেরপুরের একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীকে সরকারি 'গানম্যান' (সশস্ত্র দেহরক্ষী) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে আবেদন করেছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি)। তাদের আবেদনের যৌক্তিকতা বিবেচনা করে সরকার গানম্যান বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া এলাকাভিত্তিক নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করায় বিএনপির মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাসুদ অরুণকেও গানম্যান দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে আইজিপিকে (পুলিশ মহাপরিদর্শক) এই তিন রাজনীতিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লিখিত নির্দেশনা পাঠিয়েছে। আইজিপি বাহারুল আলম জানান, পুলিশের বিশেষ শাখার তদন্ত ও ঝুঁকি মূল্যায়ন রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই গানম্যান নিয়োগ করা হচ্ছে। এর আগে এনসিপির ছয় নেতা এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সম্পাদকসহ ২০ জনকে একই ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন।

২০০১ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও মন্ত্রীরা পদাধিকার বলে নিরাপত্তা পেলেও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা বিপন্ন হওয়ার লিখিত প্রমাণ সাপেক্ষে গানম্যান দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে পুলিশ সুপার বা কমিশনারের সুপারিশ আইজিপি হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যায় এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে তা কার্যকর হয়। তবে ২০০৬ সালের একটি নির্দেশনায় জরুরি প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ মূল্যায়নের ভিত্তিতেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সরকার মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, "শুধু গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা মাত্র। প্রকৃত নিরাপত্তার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন জরুরি। তাছাড়া এতে রাষ্ট্রে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়।"

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গানম্যান দেওয়ার এই প্রবণতা সমাজকে একটি 'প্রদর্শনমূলক সংস্কৃতির' দিকে ঠেলে দিতে পারে, যেখানে নিরাপত্তার চেয়ে প্রভাব বিস্তারই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।

প্রশাসনিক আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার জাহিদ রহমানের মতে, যথাযথ স্বচ্ছতা ও সুনির্দিষ্ট ঝুঁকির মানদণ্ড ছাড়া গানম্যান প্রদান করা হলে তা সংবিধানের সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।