• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

"৭১কে ভোলানো মানে অস্তিত্ব অস্বীকার! - বিভক্তি সৃষ্টিকারীদের তীব্র আক্রমণ ফখরুলের"


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:৩৩
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭১ সালকে ভুলে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। কারণ ওটাই হচ্ছে আমাদের জন্মের ঠিকানা। ১৯৭১ আমাদের অস্তিত্ব, পরিচিতি এবং স্বাতন্ত্র্যের কথা। এই দেশ, এই ভূখণ্ড সেদিন একটা স্বাধীন দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে, এটা সবসময় মনে রাখতে হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অপরিহার্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, একটি শক্তি যারা ১৯৭১ সালে বিরোধিতা করেছিল, তারা এখন ৭১-কে নিচে নামিয়ে দিতে চায় এবং শুধুমাত্র জুলাইয়ের আন্দোলনকে বড় করে দেখাতে চায়। তিনি বলেন, “আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পরাজিত করা এবং হাসিনাকে উৎখাত করার জন্য ১৫ বছর সংগ্রাম করেছি। মুক্তিযোদ্ধারা সংগ্রাম করেছেন। আজকে যদি কেউ দাবি করেন, এককভাবে তারা নেতৃত্ব দিয়েছে— আমরা সেটা মানতে রাজি নই।”

তিনি আরও বলেন, এই ফ্যাসিবাদী দানবীয় রাষ্ট্র কায়েমের বিরুদ্ধে বিএনপি লড়াই করেছে। আমাদের ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ৬ বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে এবং ১ হাজার ৭শ মানুষকে গুম করে দেওয়া হয়েছে, ২ হাজার মানুষকে খুন করা হয়েছে। মির্জা ফখরুল বিভেদ সৃষ্টিকারীদের সমালোচনা করে বলেন, যারা ১৯৭১ সালকে ভুলিয়ে দিতে চায়, তাদের লক্ষ্য একটাই— তারা ৭১-কে অস্বীকার করতে চায়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তনের পর ৭ নভেম্বরের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের সংস্কার শুরু করেছিলেন। শেখ মুজিবের ভয়াবহ পাঁচ বছরের দুঃশাসনের পরে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার শুরু করে একদলের শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা করেছিলেন এবং আমাদের নতুন একটা স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রেসিডেন্ট ফর্ম গভর্নমেন্ট থেকে পার্লামেন্টারি ফ্রর্ম গভর্নমেন্টে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং আমাদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও নতুন নির্বাচন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান চালু করেছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা সেই বিধান বাতিল করে মানুষের ভোট প্রয়োগের অধিকার খর্ব করে দেন।

 নির্বাচনের দিনই গণভোট, আগে নয়আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা খুব দ্রুত নির্বাচন চেয়েছিলাম। নির্বাচনের মাধ্যমেই অপশক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া যেত না।

তিনি ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনার সময় 'নোট অব ডিসেন্ট' লিপিবদ্ধ করার কথা থাকলেও এখন যে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে, সেখানে তার কোনো উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, “আমরা রাস্তায় যাইনি, প্রতিবাদ করিনি, কিন্তু যেটা সই করিনি সেটার দায় দায়িত্বও গ্রহণ করব না।”

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পিআর হবে কিনা, সেটা আগামী পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে। প্রধান উপদেষ্টা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যে নির্বাচনের ঘোষণা করেছেন, তখনই নির্বাচন হতে হবে।” তিনি বলেন, “গণভোটের কোনো প্রয়োজন ছিল না, তারপরও আমরা রাজি হয়েছি। আমরা বলেছি, নির্বাচনের দিনই গণভোট করতে হবে। আলাদাভাবে গণভোট করতে গেলে হাজার কোটি টাকার উপরে খরচ হবে। নির্বাচনে দুটো ব্যালট থাকবে— একটি গণভোটের জন্য, অন্যটি সংসদ নির্বাচনের জন্য।” কিন্তু এখন তারা বলছে গণভোট আগে হতে হবে, তারপর নির্বাচন। তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনের পেছানোর কথা একবারও বলিনি। আমরা বারবার বলছি, নির্বাচনটা অতি দ্রুত করতে হবে।”

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।