দুই দেশের স্বার্থের ধারণায় তফাতই সম্পর্কের অন্তরায়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৩
স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন বা ‘থমকে থাকা’ অবস্থার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি মনে করেন, নানা প্রতিকূলতার কারণে এই সরকারের মেয়াদে দুই দেশের সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ ছিল না। তবে নির্বাচনের পর যে নতুন সরকার আসবে, তারা এই স্থবিরতা কাটিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
সম্পর্ক প্রত্যাশিত মাত্রায় না পৌঁছানোর কারণ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, "ভারতের সঙ্গে আমরা সবসময়ই একটি ভালো এবং কার্যকর সম্পর্ক চেয়েছি। এই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা এবং আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু আমরা সফল হয়েছি তা বলা যাবে না। সম্পর্কটা বর্তমানে অনেকটা থমকে আছে।"
এই পরিস্থিতির জন্য কাউকে এককভাবে দায়ী না করে তিনি বলেন, "ভারত তাদের নিজস্ব স্বার্থের কথা চিন্তা করেছে, আমরা আমাদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি। অনেক ক্ষেত্রে দুই পক্ষের স্বার্থের ধারণার মধ্যে তফাত থাকায় আমরা এগোতে পারিনি। বেশ কিছু ‘সেটব্যাক’ বা পিছুটান থাকায় সম্পর্কটা প্রত্যাশিতভাবে স্মুথ ছিল না।"
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, "অফিসিয়ালি আমরা তাকে ফেরত চেয়েছি, কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া (রেসপন্স) পাওয়া যায়নি।" শেখ হাসিনাকে সেখানে রেখে সম্পর্ক কতটা মসৃণ হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "আমাদের আশাবাদী হতে হবে। নিশ্চয়ই কোনো একটা পথ বের হবে যার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।"
ভবিষ্যৎ সরকারের ওপর প্রত্যাশা তৌহিদ হোসেন আশা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী সরকার অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান করতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, "ইস্যু বা স্বার্থের সংঘাত সব দেশের সঙ্গেই থাকে। কিন্তু একটি মসৃণ সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, আমাদের উত্তরাধিকারী যে সরকার আসবে, তাদের সময়ে আবার একটি কার্যকর ও স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে।"
উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং এর পরপরই নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।
আপনার মতামত লিখুন :