• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

আদানির বিদ্যুতের চড়া দাম: চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে চায় নতুন সরকার


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০৯
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
ভারতের আদানি পাওয়ারের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিটি নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। বিশেষ করে আদানি পাওয়ার উৎপাদনে যে কয়লা ব্যবহার করে তার উচ্চমূল্য এবং বিদ্যুতের অতিরিক্ত ট্যারিফ নিয়ে নতুন করে দরকষাকষি করতে চায় ঢাকা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত কয়লার দাম তুলনামূলক অনেক বেশি হওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে সরাসরি বিদ্যুতের দামের ওপর। গত জানুয়ারি মাসে সরকারের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বর্তমানে আদানির বিদ্যুতের দাম হওয়া উচিত ছিল যা, তার চেয়ে অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি দাম দিচ্ছে বাংলাদেশ। এই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা দেশের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র ব্লুমবার্গকে জানিয়েছে, আদানির সঙ্গে এই অসম চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। তবে আদানি পাওয়ারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব তাদের কাছে আসেনি। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বর্তমানে তারা চুক্তির সব শর্ত মেনেই বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।

উল্লেখ্য, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আদানির সঙ্গে এই ২৫ বছর মেয়াদী চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বর্তমানে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের মোট চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আদানির সঙ্গে চুক্তি পুনর্বিবেচনার এই উদ্যোগ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে চান এবং তিনি একটি 'ব্যালেন্সড' বা ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে আগ্রহী। মূলত জাতীয় স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক সাশ্রয় নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এ বিষয়ে এখনই আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পেলে দ্রুতই আদানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।