• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোর-৪ আসনের এমপি গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাও করে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ


FavIcon
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:০৪
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার:
যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে যশোর শহরের নীলগঞ্জ সুপারি বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। এমপি গোলাম রসুলের বাড়ির বিপরীতে অবস্থিত ‘আল মাদরাসাতুল শারইয়্যাহ’-এর কয়েকজন শিশুশিক্ষার্থীকে এমপির মেয়ে মেহেজাবিন জান্নাত অনন্যা মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এরই জেরে মঙ্গলবার সকালে শিশুশিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে পুনরায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে এক অভিভাবকের মাথায় তালা দিয়ে আঘাত করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে সংসদ সদস্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালান এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে বাড়ির কয়েকটি জানালার কাঁচ ভেঙে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন ছিল।

বিক্ষোভকারীদের দাবি শিশু ও অভিভাবকের ওপর হামলার ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং দোষী মেহেজাবিন জান্নাত অনন্যাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঘটনার বিষয়ে এমপি গোলাম রসুলের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের মেয়ে মেহেজাবিন জান্নাত অনন্যা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অসুস্থতার কারণে তাঁর আচরণ মাঝে মাঝে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।

পরিবারের দাবি, মাদ্রাসার কয়েকজন শিশু ও তাদের অভিভাবকের সঙ্গে একটি ভুল বোঝাবুঝির জেরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা সকলকে ধৈর্য ধারণ এবং গুজব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।