আট মাসেই দলীয়করণ ও দুর্নীতির মহোৎসব শুরু হয়েছে: অধ্যাপক গোলাম রসুল
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৬
স্টাফ রিপোর্টার :
বাংলাদেশে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের পথ চিরতরে বন্ধ করার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার আট মাসের মধ্যেই আবারও দলীয়করণ ও দুর্নীতির মহোৎসব শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চের অংশ হিসেবে যশোরের মুড়লি মোড়ে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, সংবিধান সংস্কারের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি সংবিধান উপহার দেওয়া, যার মাধ্যমে বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না। দেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দলীয়করণ, গুম ও ক্রসফায়ার বন্ধ হবে। কোনো মানুষ নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হবে না এবং কারও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, মাত্র আট মাসের সরকার আবারও দলীয়করণ ও মহাদলীয়করণ শুরু করেছে। সার্টিফিকেট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ পদ দখলের মাধ্যমে অন্য দল ও মতের মানুষকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। দেশে বর্তমানে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট কার্যকর হলে দেশের সংবিধানে আমূল পরিবর্তন আসত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার হলে কেউ ইচ্ছা করলেও স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারত না। আইনই তাকে নিয়ন্ত্রণ করত। কিন্তু বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও সে অনুযায়ী শপথ নেয়নি এবং সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেনি।
বক্তব্যে তিনি অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে শাস্তি দেওয়া ও হত্যার অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের ওপর হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দৃশ্যমান করার দাবি জানান।
অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, শেখ হাসিনাসহ গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যায় ও হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে দেশে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
তিনি ১১ দলীয় জোটের উত্থাপিত সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য আগামী দিনের রাজপথের কর্মসূচিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
আপনার মতামত লিখুন :